পত্রিকার পাতা
ঢাকাবুধবার , ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

নড়াইলে দেশি মাছের শুঁটকির চাহিদা বাড়ছে

Md Abu Bakar Siddique
ডিসেম্বর ৩, ২০২৫ ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দেশি মাছের শুঁটকি উৎপাদনে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন নড়াইলের জেলেরা। শীত মৌসুম শুরু হতেই জেলার বিভিন্ন খাল, বিল ও নদী অঞ্চলে দিনভর চলছে মাছ শুকানোর কাজ। বিলের পাশেই খোলা জায়গায় মাচা তৈরি করা হয়েছে। তার ওপর পলিথিন বিছিয়ে কাঁটাছেঁড়া করা মাছ রোদে শুকানো হচ্ছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শ্রমিক আর মৎস্যজীবীরা পরিশ্রম করে মাছ শুকিয়ে শুঁটকি বানাচ্ছেন। শুকানো শেষে এসব মাছ বস্তায় ভরে সংরক্ষণ করা হয়। কয়েক মণ শুঁটকি প্রস্তুত হলেই তা দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয় বিক্রির জন্য।জানা গেছে, সদর উপজেলার মাইজপাড়া ও সিংগাশোলপুর ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে দেশি মাছের শুঁটকিপল্লি। শীত নামার পর খালবিল ও নদীর পানি কমে যাওয়ায় জেলেদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর দেশি মাছ। ছোট-বড় নানা প্রজাতির মাছ ধরার পরই শুরু হয় শুকানোর কাজ। টাকি, শোল, কই, চাঁদা, পুঁটি- এসব মাছ দিয়ে তৈরি হচ্ছে শুঁটকি। এর মধ্যে পুঁটি মাছের শুঁটকি তৈরি হয় সবচেয়ে বেশি। জেলেরা জানান, তিন থেকে চার মণ কাঁচা মাছ শুকালে পাওয়া যায় মাত্র ১ মণ শুঁটকি। এরপর বাজারে প্রকারভেদে প্রতি মণ শুঁটকি বিক্রি হয় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকায়।

স্থানীয়রা বলছেন, শুঁটকি তৈরির কাজে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। শুধু লবণ মেখে রোদে শুকিয়েই তৈরি করা হয় শুঁটকি। ফলে এই  শুঁটকি স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ। রাসায়নিকমুক্ত হওয়ার কারণে বাজারে এর চাহিদাও বেশি।শুঁটকি ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা জানান, বছরের এ সময়টাতেই তাদের সবচেয়ে ব্যস্ততা থাকে। খালবিলের পানি নেমে গেলে মাছ ধরা সহজ হয়। তখন জেলেরা মাছ ধরে কম দামে বিক্রি করেন। সেই মাছ কিনে তারা শুঁটকি তৈরি করেন। বছরের বাকি সময় অন্য কাজ করতে হয়। তাই শীতের কয়েক মাসে যে আয় হয়, তা দিয়েই সারা বছর সংসার চালাতে হয়। শোলপুর এলাকার শুঁটকি প্রস্তুতকারক ভীম বিশ্বাস বলেন, ‘শীত মৌসুমে খালবিলের পানি কমে যাওয়ায় জেলেদের জালে দেশি প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। কম দামে এ মাছ কিনে আমরা শুঁটকি তৈরি করি। মৌসুমি এ ব্যবসায় আমাদের লাভ ভালো হয়।’

একই এলাকার রহমান মোল্যা বলেন, ‘শীত মৌসুমে খাল ও বিল থেকে পানি কমে যাওয়ায় জেলেদের জালে দেশি প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। সেই মাছ কম দামে কিনে আমরা শুঁটকি তৈরি করি। এক মণ শুঁটকি তৈরিতে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়। খরচ বাদে সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লাভ হয়।’ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে শুঁটকি বানাতে এসে কাজ করছেন কামরুল শেখ। তিনি বলেন, ‘এখানে কই, চাঁদাসহ পুঁটি মাছের শুঁটকি তৈরি হয়। সবচেয়ে বেশি তৈরি হয় পুঁটি মাছের শুঁটকি। মাছ শুকানোর কাজে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না, শুধু লবণ দিয়ে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়। যার কারণে এ শুঁটকির চাহিদা রয়েছে।’ মাইজপাড়া ইউনিয়নের শলুয়া গ্রামের অলোক বিশ্বাস বলেন, ‘দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে আমি শুলুয়া বিলে মাচা তৈরি করে শুঁটকি তৈরির কাজ করি। আমার পরিবারের আট সদস্য এ কাজের সঙ্গে জড়িত। আমাদের এ শুঁটকি সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত। এটি মানসম্মত হওয়ায় দেশের বাইরে এ শুঁটকির চাহিদা রয়েছে।’

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, শুঁটকি উৎপাদনের সঙ্গে অনেক পরিবারের জীবিকা জড়িত। এতে এলাকার বহু মানুষ কাজের সুযোগ পান। বিশেষ করে নারীরাও মাছ পরিষ্কার ও শুকানোর কাজে যুক্ত হচ্ছেন। ফলে শুঁটকিপল্লিগুলোতে কর্মসংস্থানও বাড়ছে। জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৭৫টি পরিবার দেশি মাছের শুঁটকি তৈরির পেশায় যুক্ত রয়েছে। এ বছর ৮০ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, শুঁটকির উৎপাদন বাড়লে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ শুঁটকি জেলার বাইরে পাঠানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে পাইকাররা এসে সরাসরি এখান থেকে শুঁটকি কিনে নিয়ে যান।জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘নড়াইলের তিনটি উপজেলায় মৎস্যজীবীরা শীত মৌসুমে শুঁটকি তৈরি করে থাকেন। তাদের শুঁটকি রাসায়নিকমুক্ত হওয়ায় জেলা থেকে শুরু করে বাইরের জেলায় এ শুঁটকির চাহিদা রয়েছে। জেলা মৎস্য অফিস থেকে মানসম্মত শুঁটকি প্রস্তুত করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।