কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ করে লাভবান হয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ সাফল্য এসেছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বাছাইকৃত ৩০০ কৃষকের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদে উৎসাহ দিতে বিনামূল্যে ১ কেজি পেঁয়াজের বীজ ও ২০ কেজি সার বিতরণ করা হয়। এ উদ্যোগে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ে।
স্থানীয় কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং বিনামূল্যে ১ কেজি গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ পেয়ে ১০ কাঠা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করি।’ তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সঠিক পরিচর্যার কারণে বাম্পার ফলন হয়েছে। ৫০ মণের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০ টাকা দরে বিক্রি করে প্রায় এক লাখ টাকা লাভ হয়েছে।
কৃষক সদর মালিথা বলেন, ‘গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চারা আবাদ করা খুবই দুরূহ। তবে কৃষি অফিসারদের পরামর্শে আমরা সফল হয়েছি। এবার লাভ হয়েছে। আগামীতেও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ করব।’
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোকন হোসেন বলেন, ‘উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ নিয়ে কৃষকরা সরকারের দেওয়া বিনামূল্যের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ ও সার জমিতে ব্যবহার করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করেছি। এর ফলে উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ করে প্রায় প্রত্যেক কৃষকই আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য কুষ্টিয়া জেলার মাটি অত্যন্ত উপযোগী। এই এলাকায় কৃষকরা বরাবরই পেঁয়াজ আবাদ করে আসছেন।’ তিনি বলেন, ‘অল্প প্রশিক্ষণেই কৃষকদের কাছ থেকে বেশি ফলন পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।’

