দ্য হান্ড্রেডের নতুন আসরের নিলামে পাকিস্তানের স্পিনার আবরার আহমেদকে দলে নেওয়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স লিডস। দলটির ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক, যেখানে একদল উগ্র সমর্থক এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর তাদের পোস্টে নেতিবাচক মন্তব্যের বন্যা বয়ে যায়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, ভারতীয় লিগের সঙ্গে যুক্ত একটি দলের হয়ে কেন পাকিস্তানের ক্রিকেটার খেলবেন। সমালোচনার তীর ছোড়া হয় দলের সহ-মালিক কাব্য মারানের দিকেও।
২৭ বছর বয়সী লেগ স্পিনার আবরার আহমেদকে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে দলে নেয় সানরাইজার্স লিডস। এই দলটি পরিচালনা করে সেই ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, যারা ভারতে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স হায়দরাবাদও পরিচালনা করে।
নিলামের আগেই ধারণা করা হচ্ছিল, ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ভারতীয় মালিকানাধীন দলগুলো পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের এড়িয়ে চলবে। ২০০৯ সালের পর থেকে পাকিস্তানের কোনো ক্রিকেটার ভারতে অনুষ্ঠিত লিগে খেলতে পারেননি। দুই দেশের দল সাধারণত কেবল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেই মুখোমুখি হয়।
তবে নিলামের আগে আয়োজক কর্তৃপক্ষ ও সব ফ্র্যাঞ্চাইজি এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছিল, খেলোয়াড় বাছাই হবে সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতে। পারফরম্যান্স, প্রাপ্যতা এবং দলের প্রয়োজন বিবেচনা করেই নির্বাচন করা হবে বলে জানানো হয়। সেই নীতির কারণেই আবরার আহমেদ দলে জায়গা পেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবরারের পাশাপাশি পাকিস্তানের আরেক স্পিনার উসমান তারিকও দল পেয়েছেন। তাকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডে দলে নিয়েছে বার্মিংহাম ফিনিক্স। তবে সব পাকিস্তানি ক্রিকেটারের ভাগ্য ভালো হয়নি। পেসার হারিস রউফ সর্বনিম্ন মূল্যেও কোনো প্রস্তাব পাননি। আর শাহিন শাহ আফ্রিদি নিলামের আগেই নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন।
নারী ক্রিকেটারদের নিলামেও পাকিস্তানের জন্য সুখবর আসেনি। ফাতিমা সানা ও সাদিয়া ইকবাল কোনো দল পাননি।
ভারতে এর আগেও বিদেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্ক দেখা গেছে। চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে চাপের মুখে একটি দল তাকে দলে না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

