বিজ্ঞাপন Walton Refrigerator Freezer Offer
পত্রিকার পাতা
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

ক্রনিক স্ট্রেস কী? দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ কমানোর কার্যকর উপায়

উদ্যোক্তা ডেস্ক
মে ১৬, ২০২৬ ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা মানসিক চাপকে বলা হয় ‘ক্রনিক স্ট্রেস’। এটি শুধু মানসিক অস্বস্তি তৈরি করে না, বরং শরীরে এমন কিছু জৈবিক পরিবর্তন ঘটায়, যা দীর্ঘমেয়াদে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ হৃদ্‌রোগ, ঘুমের সমস্যা, বিষণ্নতা ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো জটিলতার কারণ হতে পারে।

মানুষ যখন দীর্ঘ সময় ধরে উদ্বেগ বা চাপের মধ্যে থাকে, তখন শরীর একধরনের ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ অবস্থায় চলে যায়। এতে মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমতে থাকে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, নিয়মিত কিছু অনুশীলন ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব।

মানসিক চাপ কমাতে কেন ‘নিরাপদ’ অনুভব করা জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর ও মনকে নিরাপদ অনুভব করানো স্ট্রেস কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। যখন মানুষ নিরাপদ বোধ করে, তখন শরীরে অক্সিটোসিন, ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মতো ইতিবাচক হরমোন নিঃসৃত হয়। এতে শরীর ‘রেস্ট অ্যান্ড ডাইজেস্ট’ অবস্থায় প্রবেশ করে এবং ধীরে ধীরে নিজেকে পুনর্গঠন করতে শুরু করে।

ডায়নামিক হিলিং কীভাবে কাজ করে

চিকিৎসাবিজ্ঞানে বর্তমানে ‘ডায়নামিক হিলিং’ ধারণা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। এটি মূলত তিনটি ধাপে কাজ করে—

১. ইনপুট নিয়ন্ত্রণ

স্ট্রেসের উৎসগুলোকে এমনভাবে গ্রহণ করা, যাতে তা স্নায়ুতন্ত্রের ওপর কম চাপ ফেলে।

২. স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করা

গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, ধ্যান ও গ্রাউন্ডিং অনুশীলনের মাধ্যমে শরীরের উত্তেজনা কমিয়ে আনা।

৩. শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা

শরীরকে ধীরে ধীরে স্ট্রেস মোড থেকে স্বাভাবিক ও শান্ত অবস্থায় ফিরতে সহায়তা করা।

নেতিবাচক চিন্তা বদলানো কেন জরুরি

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, নেতিবাচক চিন্তা শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই নিজের চিন্তার ধরনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ‘আমি পারব না’—এমন ভাবনার বদলে ‘আমি চেষ্টা করছি’ ধরনের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

একই সঙ্গে ভুলকে জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে মেনে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। ভুলের জন্য নিজেকে দীর্ঘ সময় দোষারোপ না করে সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

জীবনযাত্রায় ছোট পরিবর্তনেও কমতে পারে স্ট্রেস

দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর হতে পারে।

  • অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমানো
  • নির্দিষ্ট সময় ফোন ও ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকা
  • প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো
  • নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটা
  • কৃতজ্ঞতার চর্চা করা

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে অন্তত তিনটি বিষয় লিখে রাখা যেতে পারে, যেগুলোর জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। এতে মস্তিষ্ক ইতিবাচকভাবে কাজ করতে শেখে।

ক্রনিক স্ট্রেসের লক্ষণ

দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ থাকলে শরীরে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে—

  • সব সময় বিরক্ত বা খিটখিটে লাগা
  • ঘুমের অভ্যাসে পরিবর্তন
  • মাথাব্যথা বা পেশিতে টান
  • মনোযোগ কমে যাওয়া
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • হজমের সমস্যা

তাৎক্ষণিক চাপ ও দীর্ঘমেয়াদি চাপের পার্থক্য

পরীক্ষা, চাকরির ইন্টারভিউ বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনার আগে যে উদ্বেগ তৈরি হয়, সেটি সাধারণত স্বল্পমেয়াদি চাপ। পরিস্থিতি শেষ হলে এ ধরনের চাপও কমে যায়।

অন্যদিকে ক্রনিক স্ট্রেস দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই এ ক্ষেত্রে শুধু সাময়িক সমাধান নয়, বরং জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও প্রয়োজনে থেরাপির সহায়তা নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক সুস্থতা ফিরে পাওয়া একটি ধীর ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নিয়মিত সচেতনতা ও আত্মযত্নের মাধ্যমে মস্তিষ্ককে আবারও শান্ত থাকতে শেখানো সম্ভব।

সূত্র: Psychology Today, Healthline

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।