বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যোগ হলো নতুন এক গৌরবগাথা। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে ওয়ানডে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারায় স্বাগতিকরা। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ল লাল-সবুজের দল।
আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া—এই দুই দলের বিপক্ষেই এতদিন কোনো ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই আক্ষেপ ঘুচল এবার। এখন শুধু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ই বাকি রইল টাইগারদের। একই সঙ্গে দেশের মাটিতে টানা পাঁচটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জয়ের কীর্তিও গড়েছে বাংলাদেশ।
তাসকিন-মোস্তাফিজের আগুনঝরা বোলিং
সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে শুরু থেকেই চাপে পড়ে সফরকারীরা।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করে অস্ট্রেলিয়ার শিবিরে আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান তুলে নেন কুপার কনলি ও ম্যাট রেনশের উইকেট। ফলে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া।
ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রথমবার শূন্য রানে প্রথম তিন উইকেট হারানোর লজ্জায় পড়ে অস্ট্রেলিয়া। এর আগে ২০০৬ সালে তাদের সর্বনিম্ন ছিল ৫ রানে ৩ উইকেট।
এরপর অ্যালেক্স ক্যারি ও জশ ইংলিসও দ্রুত বিদায় নিলে ৬৮ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে সফরকারীরা।
লাবুশেনের প্রতিরোধ, তারপর বৃষ্টির বাধা
চরম বিপর্যয়ের মুখে মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। দুজনের জুটিতে বড় সংগ্রহের আভাস মিলছিল।
তবে বাংলাদেশের হয়ে আবারও আঘাত হানেন তাসকিন। তিনি একই ওভারে বার্টলেট ও অ্যাডাম জাম্পাকে ফিরিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন মার্নাস লাবুশেন।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান তিনটি করে উইকেট নেন। তানভির ইসলাম শিকার করেন দুটি উইকেট।
এরপর শেরেবাংলায় নেমে আসে ভারী বৃষ্টি। প্রায় দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
সৌম্য-শান্তর ভিত, হৃদয়-মিরাজের সমাপ্তি
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই বার্টলেটের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম।
এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকার ৮৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরান। সৌম্য ৪২ রান করে রেনশের শিকার হন। কিছুক্ষণ পর একই রানে বিদায় নেন শান্তও।
মাঝের দিকে লিটন দাস ও মোসাদ্দেক হোসেন দ্রুত আউট হয়ে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। হৃদয় অপরাজিত ৪০ এবং মিরাজ ২২ রান করে ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়েন।
৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আনন্দে মাতে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ১৮৭/৮ (৪২ ওভার)
মার্নাস লাবুশেন ৫৫, বার্টলেট ৪৪
তাসকিন আহমেদ ৩ উইকেট, মোস্তাফিজুর রহমান ৩ উইকেট
বাংলাদেশ: ডিএলএস পদ্ধতিতে ১৯২ রানের লক্ষ্য
বাংলাদেশ জয়ী ৫ উইকেটে (৪১ ওভারের লক্ষ্য)
সৌম্য সরকার ৪২, নাজমুল হোসেন শান্ত ৪২, তাওহীদ হৃদয়* ৪০, মেহেদী হাসান মিরাজ* ২২


