বিদেশে বৈধভাবে লোক পাঠানোর আশ্বাস, ভিসা প্রসেসিং ও বিভিন্ন পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে হেলাল উদ্দিন ওরফে হাজী সুমন আহমেদ কিং ওরফে কিং সুমন নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তিনি বিভিন্ন সময়ে একাধিক নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন এবং বিদেশে চাকরি ও বৈধ ভিসার আশ্বাস দিয়ে অর্থ ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করতেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতালি ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৈধভাবে লোক পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি। অনেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বিদেশে যেতে পারেননি এবং পাওনা অর্থ ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, পাওনা অর্থ ফেরত চাইলে নানা ধরনের সময়ক্ষেপণ, চাপ সৃষ্টি এবং পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, টাকা ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, এ ঘটনায় পল্টন থানায় লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রাজধানীর একটি হোটেল থেকে থানায় নিয়ে আসা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানান। পরে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন প্রভাবশালী ও পরিচিত মহলের সাথে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের সহজ-সরল মানুষদের বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানবপাচার, হুন্ডি এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়গুলো নিয়ে নিরপেক্ষ ও বিস্তারিত তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
এছাড়া কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে একাধিক পরিবার আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি একটি আত্মহত্যার ঘটনাকেও স্থানীয়ভাবে এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত বলে আলোচনা করা হলেও এ বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের ভাষ্য, “সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হলে ক্ষতিগ্রস্তরা ন্যায়বিচার পাবেন।”


