হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ভারতের বাসমতি চাল ও চা রপ্তানি খাত উদ্বেগের মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে পণ্য পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হলে বাসমতি চালের দাম ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রপ্তানিকারকেরা।
ভারতের রপ্তানিকারক সংগঠনের নেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাসমতি চালের চাহিদা বেড়েছিল। এতে চালের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার টন ভারতীয় বাসমতি চাল পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাঠানোর পথে রয়েছে। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইয়েমেন ভারতের বাসমতি চালের প্রধান আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশটির মোট বাসমতি চাল রপ্তানির প্রায় অর্ধেকই এসব বাজারে যায়।
ভারত বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন বাসমতি চাল উৎপাদন করে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ টন বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সংকট দেখা দিলে রপ্তানি আয় ও বাজারদর—উভয়ের ওপরই চাপ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ভারতের চা রপ্তানিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে ভারতের প্রিমিয়াম মানের দ্বিতীয় ফ্লাশ অর্থোডক্স চায়ের চাহিদা বেশি। সাধারণত মে মাসের শেষ দিকে রপ্তানি আদেশ আসা শুরু হয় এবং জুন থেকে চালান পাঠানো হয়।
চা রপ্তানিকারকেরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর হয়ে পণ্য পরিবহনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ শৃঙ্খলেও প্রভাব পড়তে পারে।
খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০২৫ সালে ভারত প্রায় ২৮৫ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি করেছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। মোট চা রপ্তানির প্রায় ৫০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে যায়। ফলে ওই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের চা শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু ভারত নয়, বৈশ্বিক কৃষিপণ্য ও খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ বিলম্ব এবং বাজারদরে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


