ভারতে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এবার বিরোধী দলগুলোর প্রকাশ্য সমর্থন মিলেছে। আন্দোলনের একটি অংশ এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জবাবদিহিও দাবি করছে।
বুধবার রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থী ও তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের ব্যঙ্গাত্মক সামাজিক আন্দোলনের সমর্থকেরা সেখানে অবস্থান অব্যাহত রাখেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে জাতীয় আন্দোলন
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (NEET) এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর এই আন্দোলনের সূত্রপাত। পরীক্ষা বাতিল ও পুনরায় আয়োজনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা, জবাবদিহি এবং শিক্ষা খাতে সংস্কারের দাবি জানান। পরে আন্দোলনের পরিধি বেকারত্ব, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে বিস্তৃত অসন্তোষের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে।
বিরোধী দলগুলোর সমর্থনে রাজনৈতিক চাপ
সাম্প্রতিক পুলিশি অভিযানের পর আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানায় কংগ্রেসসহ কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দল। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেন এবং সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন। পুলিশ তাকে বিক্ষোভ চলাকালে কিছু সময়ের জন্য আটক করেছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলগুলোর সমর্থনে আন্দোলনটি আরও বেশি রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সিজেপি নেতৃত্ব বলছে, তাদের মূল লক্ষ্য শিক্ষা খাতে সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।
আন্দোলনের পেছনের প্রেক্ষাপট
গত মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি বেকার তরুণদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ’ পরিচয়কে ব্যঙ্গাত্মক প্রতীকে পরিণত করে তরুণদের একটি অংশ। সেখান থেকেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের আন্দোলনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে এটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখো তরুণের সমর্থন পায়।
পুলিশি ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রা ঠেকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। এ ঘটনায় বহু মানুষ আহত হন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সংস্কারের প্রতিশ্রুতি সরকারের
চাপের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছে সরকারের জবাবদিহি রয়েছে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।

