চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন মানবাধিকারকর্মী নাভেনথাম নাভি পিলাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টার দিকে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।
নোবেল কমিটি জানিয়েছে, শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মানজনক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যেন বিচারের মুখোমুখি হন, তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নাভেনথাম।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্য চলাকালে ডারবানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক তামিল পরিবারে জন্ম নেন নাভেনথাম। পরে তিনি আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং আইনি ক্ষেত্রে অগ্রদূতের ভূমিকা রাখেন।
সমাজে বিদ্যমান কাঠামোগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। কর্মজীবনের শুরুর দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের পক্ষে আইনি লড়াই করেছেন। পরে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নাভেনথাম দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক ছিলেন। এ ছাড়া রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে কাজ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অপরাধ তদন্তে গঠিত জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনেও কাজ করেছেন নাভেনথাম। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রয়েছেন, যেখানে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিচার চলছে।
এর আগে গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশটির সাধারণ মানুষকে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে উদ্বুদ্ধ করা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে একনায়কতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রের পথে উত্তরণের আন্দোলনে ভূমিকার জন্য তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয় বলে জানায় নোবেল কমিটি।
২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই। তাঁর চেয়ে কম বয়সে আর কেউ এ পুরস্কার পাননি। অন্যদিকে ১৯৯৫ সালে ৮৬ বছর বয়সে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন জোসেফ রোটব্লাট।
নোবেল কমিটি জানিয়েছে, এ বছর নাভেনথামকে পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে তারা বিশ্বকে মনে করিয়ে দিতে চায়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন মিলে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলে, যার মাধ্যমে অহিংস উপায়ে দ্বন্দ্বের সমাধান এবং শান্তি বজায় রাখা সম্ভব।


