পত্রিকার পাতা
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

ইছামতিতে ভাসমান লাউচাষে সফল মোস্তাকিম

Md Abu Bakar Siddique
নভেম্বর ২৭, ২০২৫ ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দিনাজপুরের খানসামায় ইছামতি নদীর পাঁচ শতক জায়গায় ভাসমান পদ্ধতিতে লাউসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে দৃষ্টান্ত গড়েছেন মোস্তাকিম ইসলাম (২৫)। ইউটিউবে ভাসমান কৃষির ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি পরিত্যক্ত নদীর অংশটিকে কাজে লাগিয়েছেন। তার এই উদ্যোগ এখন এলাকায় আলোচনার বিষয়।মোস্তাকিম উপজেলার ছাতিয়ানগড়ের ঝাপুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বাবা মোকসেদ আলীর সামান্য বসতভিটা ছাড়া তার আর কোনো আবাদযোগ্য জমি নেই। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন নদীর পাড়ে  অকেজো জায়গায় চাষ করবেন। নদীতে স্রোত না থাকলেও সেখানে হাঁটু-সমান পানি থাকে প্রায় সারা বছর। সেই পানির ওপর বাঁশের মাচা তৈরি করে টব বা ছোট পাত্রে মাটি ভরে তিনি লাউয়ের চারা রোপণ করেন।এখন পুরো মাচাজুড়ে ছড়িয়ে আছে সবুজ লাউগাছ। ডগায় ডগায় ঝুলছে লম্বা লাউ। দেখতে আকর্ষণীয়। স্বাদেও উৎকৃষ্ট। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোস্তাকিম লাউ খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত। বাঁশ, মাচা, টব ও পরিবেশ মিলিয়ে গড়ে উঠেছে একদম অনন্য একটি বাগান।

মাত্র ১ হাজার টাকা ব্যয়ে শুরু করা এ কাজ এখন তাকে দেখাচ্ছে স্বপ্ন। তার হিসাব অনুযায়ী, এখানে উৎপাদিত লাউ বিক্রি করে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা আয় হবে। এতে তিনি উৎসাহ পেয়েছেন। পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়েও বাজারে বিক্রি করতে পারছেন।মোস্তাকিম বলেন, ‘পরিত্যক্ত নদীর অংশটাকে কাজে লাগানোর চিন্তা থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করি। পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পর এখন বাজারেও বিক্রি করতে পারছি। এতে ভালোই আয় হয়।’

তার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়েছেন এলাকার আরও কয়েকজন যুবক। একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নদীর এমন পরিত্যক্ত জায়গায় লাউ চাষ হবে। এটা আগে কেউ ভাবেনি। এখন দেখে সত্যিই অভিভূত হচ্ছি। আমরাও এমন উদ্যোগ নিতে চাই।’

স্থানীয় কৃষক আবদুস সালাম জানান, বর্ষায় পানি বাড়লেও বেশির ভাগ সময় নদীতে স্রোত থাকে না। তাই দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ থাকা জায়গাগুলো পড়ে থাকে অকেজো। তিনি বলেন, ‘এই জায়গায় যদি সমবায় ভিত্তিতে ভাসমান কৃষি করা যায়, তাহলে এলাকার সবজির চাহিদা পূরণ হবে। বাইরে সরবরাহও করা সম্ভব।’

ভাসমান কৃষি নিয়ে কৃষি বিভাগও আগ্রহী। উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল বিন আমিন বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তার উদ্যোগ দেখে আরও অনেকে ভাসমান কৃষিতে আগ্রহী হচ্ছেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানান, পরিত্যক্ত জমিকে আবাদে ফিরিয়ে আনতে কৃষকদের নিয়মিত উৎসাহ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘ভাসমান কৃষি এ অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

স্থানীয় সংবাদকর্মী রকিবুল ইসলাম রকি বলেন, ‘মোস্তাকিম ইসলামের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ স্থানীয় কৃষির চেহারা বদলে দিতে পারে। পরিত্যক্ত নদীপাড়ও এখন সবুজে ভরে উঠছে। বাড়ছে কর্মসংস্থান ও আয়। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।