পত্রিকার পাতা
ঢাকাসোমবার , ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

গাইবান্ধায় ঘাস চাষে দিনমজুর গফুরের সাফল্য

Md Abu Bakar Siddique
সেপ্টেম্বর ১, ২০২৫ ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর দিনমজুর আব্দুল গফুর ঘাস চাষ করে বছরে ২০ লাখ টাকার বেশি আয় করছেন। ২২ বিঘা জমিতে নেপিয়ার জাতের ঘাস চাষ করে তিনি লাখপতি হয়েছেন। এখন তার সাফল্য স্থানীয় কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।আব্দুল গফুরের বাড়ি সুলতানপুর বাড়াইপাড়া গ্রামে। উপজেলা শহর থেকে গ্রামটি প্রায় চার কিলোমিটার দূরে। তিনি জানান, জীবন শুরু হয়েছিল অভাবে। পৈতৃক সূত্রে সামান্য জমি পেয়ে, শিক্ষায় বেশি এগোতে পারেননি। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন পার হতো। কখনো অন্যের জমিতে কাজ, কখনো ধার-দেনা এভাবেই চলত জীবন।তিনি বলেন, ‘অভাবে লেখাপড়া বেশি করতে পারিনি। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছি। স্ত্রী আছিয়া বেগম গৃহিণী। বড় ছেলে আতিয়ার রহমান (৪১) নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। দ্বিতীয় ছেলে ফারুক হাসান (৩৪) উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছে। একমাত্র মেয়ে মুক্তা রানি এসএসসি পাসের পর বিয়ে দিয়েছি।’তিনি জানান, একসময় অন্যের জমিতে দিনমজুরি করতেন। দৈনিক আয় ৮০ থেকে ১০০ টাকা, যা সাত সদস্যের সংসার চালাতে যথেষ্ট ছিল না।একসময় পৈতৃক জমি বিক্রি করে বড় ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন। দালালদের হাতে টাকা চলে যায়। পথে বসে গিয়ে দিনমজুরি ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। ২০২৩ সালে সাত হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি বকনা বাছুর কিনে শুরু করেন গবাদি পশু পালন। এখন খামারে তিনটি গাভি ও চারটি ষাঁড় আছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।

আব্দুল গফুর বলেন, ‘২০০৪ সালে গ্রামের হোটেলমালিকের খামার ও ঘাস চাষ দেখে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন শুরু হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে নেপিয়ার জাতের ঘাসের চারা সংগ্রহ করি। মাত্র ৫ শতাংশ জমিতে কাটিং পদ্ধতিতে ঘাস লাগাই। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি।’বর্তমানে তিনি ২২ বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করেন। এর মধ্যে ১০ বিঘা নিজস্ব, ১২ বিঘা বন্ধক নেওয়া। এক বিঘা জমিতে খরচ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। ঘাস একবার লাগালে তিন বছর পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। বছরে এক বিঘা থেকে ১ লাখ টাকার বেশি আয় হয়। ২২ বিঘা থেকে বছরে প্রায় ২২ লাখ টাকা বিক্রি সম্ভব। ঘাস লাগানোর ৪০ দিন পর বিক্রি শুরু হয়। খরচ বাদ দিয়ে মাসে গড়ে ১ থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হয়।খামারের পাশাপাশি বাড়িতে হাঁস-মুরগি ও বিদেশি ছাগল রয়েছে। পানি সেচের জন্য তিনটি শ্যালো মেশিন ও একটি মোটর ব্যবহার করেন। যোগাযোগের জন্য দুটি মোটরসাইকেল ও পাঁচটি ভ্যান আছে। পাঁচজন চালক প্রতিদিন ঘাস বাজারে পৌঁছে দেয়। ভ্যানচালকরা মাসে ছয় হাজার টাকা বেতন পান।বাড়ি ও জমি প্রসঙ্গে তিনি জানান, একসময় ১০ শতাংশ জমিতে টিনসেড ঘর ছিল। এখন এক বিঘা জমিতে দুইতলা ভবন ও ১০ বিঘা কৃষিজমি রয়েছে। ছেলেমেয়েরা খামার ও ঘাস চাষে যুক্ত। ছেলেরা বলেন, ‘আমরাও খামার ও ঘাস চাষের সঙ্গে যুক্ত। ঘাস চাষ আমাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।’

আব্দুল গফুরের সাফল্যে গ্রামের শতাধিক কৃষক ঘাস চাষে স্বাবলম্বী হয়েছেন। স্থানীয় কৃষক আলমঙ্গীর বলেন, ‘গফুরের ঘাস চাষ দেখে আমি শুরু করি। আট বছর ধরে দুই বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করছি। লাভ বেশি।’ মজিদ মিয়া বলেন, ‘তিন বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করি। নিজের গরুকে খাওয়ানোর পর মাসে ১২ হাজার টাকা বিক্রি হয়।’পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশীদ বলেন, ‘মাত্র পাঁচ শতাংশ জমি দিয়ে শুরু করে এখন ২২ বিঘায় চাষ করছেন। তিনি এলাকার সফল উদ্যোক্তা। অনেকেই তার দেখানো পথে ঘাস চাষে এগিয়েছে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।