পত্রিকার পাতা
ঢাকাশুক্রবার , ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

দাঁতের যত্নে নবীযুগের মেসওয়াকই স্বাস্থ্যসম্মত

পত্রিকার পাতা ডেস্ক
জুলাই ৩১, ২০২৬ ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মানুষের জীবন যত আধুনিক হচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও গবেষণায় কিছু টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা অতি সূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।
এই ক্ষুদ্র কণাগুলো খালি চোখে দেখা যায় না। তবে দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য এগুলো ক্ষতিকর হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে আসছেন। আধুনিক জীবনের নানা সুবিধার আড়ালে যখন এ ধরনের অজানা ঝুঁকি সামনে আসছে, তখন একজন মুসলমানের মন ফিরে যায় সেই মহান শিক্ষকের দিকে, যিনি প্রায় ১৪ শ বছর আগে প্রাকৃতিক, নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও বরকতময় একটি উপায় শিখিয়ে গেছেন। এর নাম মেসওয়াক।
মেসওয়াক শুধু একটি গাছের ডাল নয়; এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসার একটি সুন্নাহ। এর সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য ও ইবাদতের এক অনন্য সমন্বয় রয়েছে। আজ বিজ্ঞান যখন প্রাকৃতিক উপায়ের গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করছে, তখন একজন মুমিনের জন্য মেসওয়াকের গুরুত্ব আরও গভীরভাবে অনুভব করার সময় এসেছে।
ইসলাম মানুষের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পবিত্রতাকে সমান গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা সর্বদা পবিত্রতা অর্জন করে তাদেরও ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ২২২)
পবিত্রতা ইসলামের সৌন্দর্য। মুখ ও দাঁতের পরিচ্ছন্নতা সেই পবিত্রতারই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।
এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) মেসওয়াককে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যদি আমার উম্মতের ওপর কষ্টকর মনে না করতাম, তবে প্রত্যেক নামাজের সময় তাদের মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৮৮৭)
একটি আমলকে শুধু উম্মতের কষ্টের কথা বিবেচনা করে ফরজ করা হয়নি—এ থেকেই মেসওয়াকের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এটি শুধু দাঁত পরিষ্কারের একটি উপায় নয়; বরং ইবাদতের প্রস্তুতি, পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির সঙ্গে যুক্ত একটি সুন্নাহ।
অন্য একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মেসওয়াক মুখকে পবিত্র করে এবং রবের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ২৮৯)
এই বাণীর তাৎপর্য গভীর। আধুনিক টুথপেস্ট মুখ পরিষ্কার করতে পারে, কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এই বিশেষ সুন্নাহর মর্যাদা দিতে পারে না।
মেসওয়াক একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতার উপকরণ, সুন্নাহ পালনের মাধ্যম এবং সওয়াবের উৎস।
বর্তমানে আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন প্রতিদিন নতুন নতুন রাসায়নিক উপাদান আমাদের জীবনে যুক্ত হচ্ছে। খাবার থেকে প্রসাধনী—সব ক্ষেত্রেই কৃত্রিম উপাদানের ব্যবহার বেড়েছে। এখন টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির মধ্যে থাকা আল্লাহর দেওয়া সহজ ও নিরাপদ নিয়ামতগুলোর মূল্য কতটা।
মেসওয়াক এমনই একটি নিয়ামত, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিম সমাজে পরিচ্ছন্নতা ও সুস্বাস্থ্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
মেসওয়াকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি কৃত্রিম রাসায়নিকের ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি সহজ, প্রাকৃতিক, পরিবেশবান্ধব ও সুন্নাহসম্মত। নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহারে দাঁত পরিষ্কার রাখা, মুখের দুর্গন্ধ কমানো, মাড়ির সুস্থতা বজায় রাখা এবং মুখের পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি প্রতিবার মেসওয়াক ব্যবহারের মাধ্যমে একজন মুসলমান সুন্নাহ পালনের সওয়াব লাভ করেন।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের অনেকেই সুন্নাহকে পুরোনো মনে করে আধুনিকতার পেছনে ছুটেছি। অথচ আধুনিক বিশ্ব এখন আবার প্রাকৃতিক জীবনধারার দিকে ফিরতে শুরু করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) যে পথ দেখিয়েছেন, সেটিই আজও ভারসাম্যপূর্ণ, স্বাস্থ্যকর ও কল্যাণকর জীবনযাপনের পথ।
তাই আধুনিকতার নামে অন্ধ অনুকরণ না করে কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন গড়ে তোলা প্রয়োজন। ঘর, মসজিদ, মাদরাসা ও পরিবারে মেসওয়াকের চর্চা আবারও চালু করা যেতে পারে। এতে একদিকে সুন্নাহ পালনের সৌভাগ্য অর্জিত হবে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক ও পরিচ্ছন্ন জীবনধারার দিকেও ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে। ইনশাআল্লাহ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।