পত্রিকার পাতা
ঢাকাবুধবার , ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

রাজশাহীর বাজারে শীতের সবজি, দাম চড়া

Md Abu Bakar Siddique
অক্টোবর ২১, ২০২৫ ১০:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাজশাহীর বাজারে উঠেছে আগাম শীতের সবজি। তবে দাম চড়া। ফুলকপি, টমেটো, বেগুনের মতো সবজির দাম সাধারণের নাগালের বাইরে। সরবরাহ কম থাকায় বিক্রেতারা বলছেন, দাম এখনই কমবে না। কৃষকরা লাভবান হলেও ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বাজারে এখন কেবল আলুই সস্তা। কৃষি বিভাগ বলছে, আগাম চাষে ঝুঁকি কম, লাভ বেশি। সরবরাহ বাড়লে দামও কমবে। তবে শীত জমার আগেই বাজারে পড়েছে গরম হাওয়া।নগরের সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, সাগরপাড়া, কোর্ট স্টেশন, বউবাজার ও শালবাগানসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের সবজির সরবরাহ এখনো সীমিত। যে দোকানগুলোতে নতুন সবজি এসেছে, সেখানে ক্রয়মূল্য প্রায় দ্বিগুণ।

প্রতিটি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়, বাঁধাকপি ৮০ টাকা, বেগুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি, আর টমেটো মিলছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। জাত ও গুণগত মানভেদে শাক ৩০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। করলা মিলছে ১২০ টাকায়, কচু ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা, আর প্রতিটি লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। তবে এই বাজারে এখন সবচেয়ে সাশ্রয়ী সবজি হচ্ছে আলু। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০ টাকায়, যা কিছুটা হলেও সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিচ্ছে।

সবজি কিনতে আসা মাহমুদুল হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘ফুলকপির দাম শুনেই হতবাক হয়েছি। প্রচণ্ড দাম। এখনই কিনব না, দাম কমলে তখন দেখব।’ আরেকজন ক্রেতা আবদুল্লাহ বললেন, ‘যে কয়টা বাজারে শীতের সবজি এসেছে, সেগুলো ছোঁয়ারও উপায় নেই। এত দামে সাধারণ মানুষের কেনার সামর্থ্য নেই।’

সবজির দামে অসন্তোষ থাকলেও বিক্রেতারা বলছেন, এখনো মাঠে পর্যাপ্ত সবজি উঠেনি বলেই বাজারে সরবরাহ কম। ফলে দাম বেশি। শালবাগান বাজারের বিক্রেতা মো. শাওন বলেন, ‘এখনো পর্যাপ্ত সবজি উঠেনি মাঠে। সরবরাহ কম বলেই দাম বেশি। আমরা যদি কম দামে কিনতে পারি, তাহলে কম দামেই বিক্রি করা সম্ভব হবে।’

এদিকে দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা। মৌসুম শুরুর আগেই যারা শীতের সবজি বাজারে তুলেছেন, তারা পাচ্ছেন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দাম। ফলে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মুখে এখন হাসি।

পবা উপজেলার পারিলা, বড়গাছী, হরিপুর, নওহাটা ও দামকুড়াসহ নানা এলাকায় মাঠে চলছে আগাম শীতকালীন সবজির চাষ। সবুজের সমারোহে ছেয়ে গেছে ফসলের মাঠ। কোথাও চলছে চারা রোপণ, কোথাও আবার শুরু হয়েছে আগাম সবজি তোলা। আগাম জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লালশাক, পুঁইশাক, বেগুন, করলা, টমেটো, লাউ-

সবকিছুর চাষ নিয়েই ব্যস্ত কৃষকরা।

নওহাটা কাঁচাবাজারে দেখা গেছে, প্রতি পিস লাউ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়, খুচরা বাজারে ৫০-৫৫ টাকায়। কৃষকরা বলছেন, এই সময়ের লাভই তাদের পুরো মৌসুমের প্রেরণা।

হরিপুর ইউনিয়নের সোনাইকান্দি গ্রামের কৃষক মশিউর রহমান বলেন, ‘আমি এক বিঘা জমিতে আগাম জাতের লাউ চাষ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। পাইকারি বাজারে বিক্রি করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার লাউ পেয়েছি। লাভ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা।’

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৫ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৭৯ হেক্টর জমিতে আগাম সবজির চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৩০ টন হারে উৎপাদন ধরে মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৮০০ টন সবজি উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক উম্মে ছালমা বলেন, ‘আগাম সবজি চাষ এখন অত্যন্ত লাভজনক পদ্ধতি। এতে কৃষকের আয় যেমন বাড়ছে, তেমনি বাজারে সবজির সরবরাহও নিশ্চিত হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সময় পোকামাকড় ও রোগবালাই তুলনামূলক কম থাকায় ঝুঁকিও কম। ফলে কৃষকরা সহজেই ভালো মানের, কীটনাশকমুক্ত সবজি উৎপাদন করতে পারছেন, যা ক্রেতাদের কাছেও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।