এ শহরই জানে তাঁর জীবনের প্রথম সবকিছু। এখানেই জন্ম, বেড়ে ওঠা। নাটক, সংগীত ও সাহিত্যে তাঁর হাতেখড়িও এই শহরেই।
বিএনপির তৃণমূলের কর্মী থেকে কেন্দ্রীয় মহাসচিব এবং পৌরসভা চেয়ারম্যান থেকে দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার দীর্ঘ পথচলার সাক্ষী টাঙ্গন নদীর তীরের এই ছোট্ট শহর। এই মাটির শেকড় থেকেই তিনি পৌঁছেছেন সাফল্যের শিখরে। অর্জন করেছেন জীবন, রাজনীতি ও পৃথিবী সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামের হেলিপ্যাডে তাঁর অবতরণের কথা ছিল। তবে তিনি সেখানে পৌঁছান বেলা ১টার দিকে।
এরপর ঠাকুরগাঁও জেলা সার্কিট হাউসে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তিনি সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। পথে রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে সম্ভাষণের জবাব দেন রাষ্ট্রপ্রধান।
আজ বিকেলে ঐতিহাসিক বড় মাঠে রাষ্ট্রপতির সম্মানে এক বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। জেলার সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে তাঁকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
সংবর্ধনা শুরুর আগেই অবশ্য হঠাৎ পুরো শহর অন্ধকার হয়ে মুষলধারে বৃষ্টি নামে। তবে বৃষ্টি বা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগই লাখো মানুষের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও আনন্দকে থামাতে পারেনি।
রাষ্ট্রপ্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়েই বইছে উৎসবের আমেজ। তাঁকে বরণ করে নিতে শহরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রধান প্রবেশপথগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণিল ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ ও আলোকসজ্জায়।
নাগরিক সংবর্ধনাসহ একগুচ্ছ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
এদিকে রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে বিশেষ নজরদারি। রাষ্ট্রপতির চলাচলের পুরো পথজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
একসময় যিনি ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষের অতি আপনজন, আজ সেই ‘ঘরের ছেলে’কে রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে দেখে গর্বিত পুরো জেলার মানুষ। প্রিয় নেতা তথা দেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখতে এবং সরাসরি বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের মানুষ।


