দেশের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজ বাংলাদেশ সারা দেশে তাদের ১৬টি হাব বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত রোববার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে বিক্রেতাদের জানানো হয়েছে। ঢাকার কয়েকটি হাবের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হলেও অধিকাংশ জেলা শহরের বন্ধ হওয়া হাবের ক্ষেত্রে কোনো বিকল্প কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়নি।
দারাজের বিক্রেতাদের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকার চকবাজার-২, পল্টন ও সাভার হাব বন্ধ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের চকবাজার-১, মালিবাগ এবং নতুন সাভার হাব ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রামের নিউমার্কেট হাবের কার্যক্রম আগ্রাবাদ হাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তবে বগুড়া, রংপুর, কুষ্টিয়া, বরিশাল, রাজশাহী, টাঙ্গাইল, বাগেরহাট, ময়মনসিংহ, জামালপুর, ফরিদপুর, মৌলভীবাজার ও সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার হাব বন্ধ হলেও সেসব এলাকার জন্য কোনো বিকল্প হাবের তথ্য দেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয় পর্যায়ের বিক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হাব কমিয়ে আনার ফলে জেলা পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি তুলনামূলক বড় বিক্রেতাদের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, দারাজ বর্তমানে পরিচালন ব্যয় কমানো এবং ব্যবসা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে অবকাঠামো ও পরিচালন খাতে ব্যয় সংকোচনের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সূত্রগুলোর দাবি, দারাজের মূল মালিক প্রতিষ্ঠান আলীবাবা গ্রুপ সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। ফলে ই-কমার্স ব্যবসার বিভিন্ন ইউনিটে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, দারাজ বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে নিজেদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পরিচালিত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য অর্জন করতে না পারলে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা বা ভর্তুকি সীমিত হতে পারে বলে জানা গেছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি কর্মীসংখ্যা কমানো, অফিস স্পেস সংকুচিত করা এবং পরিচালন ব্যয় হ্রাসের উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, বর্তমানে কর্মরত জনবলের একটি বড় অংশ চুক্তিভিত্তিক বা আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় কাজ করছেন। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও কমতে পারে।
এ ছাড়া রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত প্রধান কার্যালয়ের ব্যবহৃত অফিস স্পেসও কমানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, কিছু বিক্রেতার পাওনা অর্থ পরিশোধে বিলম্বের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে কয়েকজন বিক্রেতা নিয়মিতভাবে পণ্য সরবরাহে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। সম্প্রতি ডেলিভারি ও লজিস্টিকস খাতের কিছু কর্মীর কর্মবিরতির ঘটনাও ঘটেছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে।
দারাজ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পুনর্গঠন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৬টি হাব অন্য হাবের সঙ্গে একীভূত বা স্থানান্তর করা হয়েছে।
বর্তমানে সারা দেশে দারাজের প্রায় ১০০টি হাব রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি হাবের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করা হলেও বাকি হাবগুলো স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, ভবিষ্যতে সম্পদ লিজ দেওয়া, আউটসোর্সিং বৃদ্ধি বা অংশীদারত্বভিত্তিক পরিচালন ব্যবস্থার মতো বিকল্প মডেল বিবেচনা করা হতে পারে।
২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত দারাজ বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে ২০১৫ সালে। ২০১৮ সালে চীনা প্রযুক্তি ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলীবাবা গ্রুপ দারাজ অধিগ্রহণ করে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে প্রতিষ্ঠানটি ই-কমার্স সেবা পরিচালনা করছে।

