বিজ্ঞাপন Walton Refrigerator Freezer Offer
পত্রিকার পাতা
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সব খবর

৩০ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলায় নতুন পাঠ্যবই পৌঁছানোর লক্ষ্য, ছাপা শেষ ৫৭ শতাংশের বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর হাতে পরিমার্জিত নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে চায় সরকার। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের সব শ্রেণির শতভাগ মানসম্মত ও আকর্ষণীয় বই উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহের লক্ষ্যে তদারকি জোরদার করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

সংস্থাটির সর্বশেষ মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক্‌-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের কাজ প্রায় শতভাগের কাছাকাছি পৌঁছেছে। অন্যদিকে ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে বই ছাপার অগ্রগতি ৫৭ শতাংশের বেশি। তবে অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপার কাজ কয়েকটি প্রেসে শুরু হলেও অধিকাংশ প্রেসে এখনো শুরু হয়নি।

এনসিটিবি জানিয়েছে, যেসব প্রেস প্রাথমিক ও মাধ্যমিক—উভয় স্তরের বই ছাপার দায়িত্ব পেয়েছে, সেগুলোতে প্রাথমিকের বই ছাপা শেষ হওয়ার পর মাধ্যমিকের বই ছাপার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ইবতেদায়ি, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের কাজ এগিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি ছাপাখানায় অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির বইয়ের ফর্মা ছাপানো হচ্ছে।

এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, এবার সারা দেশে ৬২৩টি লটে ১১৩টি মুদ্রণপ্রতিষ্ঠান পাঠ্যবই ছাপার কাজ পেয়েছে। প্রাক্‌-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের (ইবতেদায়ি, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি) জন্য মোট ৩০ কোটি ৭৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১টি বই ছাপানো হবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বইও রয়েছে। এবার গত বছরের তুলনায় এক মাস আগে বই ছাপার কাজ শুরু হয়েছে।

স্তরভিত্তিক বই ছাপার অগ্রগতি

এনসিটিবির ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক্‌-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই ছাপার অগ্রগতি সন্তোষজনক এবং চুক্তি অনুযায়ী তা প্রায় শতভাগের কাছাকাছি।

প্রাক্‌-প্রাথমিক স্তরে মোট ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ১৫৩টি ছাপানো হয়েছে। এ হার ৯৮ দশমিক ২১ শতাংশ। এ স্তরে প্রাক্‌-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) সম্পন্ন হয়েছে ৫০ লাখ ৭০ হাজার ২৪০টি বইয়ের, যা মোট বইয়ের ৮৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

অন্যদিকে প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ৬ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ১৭৩টি ছাপানো হয়েছে। এ হার ৮৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর মধ্যে ৫ কোটি ৯১ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৯টি বইয়ের পিডিআই সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট বইয়ের ৭৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। প্রাক্‌-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তর মিলিয়ে গড়ে ৯২ দশমিক ৯৪ শতাংশ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে।

মাধ্যমিক স্তরের সঙ্গে ইবতেদায়ি বইয়ের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ইবতেদায়ির প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির মোট ৪ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৪টি বইয়ের মধ্যে ২ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৮৪টি ছাপানো হয়েছে। এ হার ৬৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে ২ কোটি ১২ লাখ ৮১ হাজার ৪২২টি বইয়ের পিডিআই সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট বইয়ের ৫১ দশমিক ১১ শতাংশ।

অন্যদিকে মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৮টি বইয়ের মধ্যে ৯ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৫৬টি ছাপানো হয়েছে। এ হার ৫১ দশমিক ১৮ শতাংশ। এর মধ্যে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫টি বইয়ের পিডিআই সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট বইয়ের ৩৭ দশমিক ০৫ শতাংশ।

ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে গড়ে ৫৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। বইয়ের মান ও ছাপার অগ্রগতি নিশ্চিত করতে এ দুই স্তরে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদারকি করছে এনসিটিবি।

এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বাসসকে বলেন, ‘প্রাক্‌-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের বই ছাপার কাজ ৯০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ইবতেদায়ি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির কাজও অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। তবে অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির কাজের গতি কিছুটা কম থাকায় মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এ স্তরের কয়েকটি লটে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করায় কিছুটা ধীরগতি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, কাজের গতি কম থাকায় ৩২টি প্রেসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পিছিয়ে থাকা প্রেসগুলোর কাজ বাতিল করে অন্য প্রেসকে দায়িত্ব দিয়ে কাজ সমন্বয় করা হবে। বইয়ের মান ও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করতে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক দল মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করছে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এনসিটিবি জানিয়েছে, প্রাক্‌-প্রাথমিক, প্রাথমিকের সব শ্রেণি এবং মাধ্যমিক স্তরের ৫০ শতাংশ বই ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পাঠানোর কাজ চলছে। সরকারের লক্ষ্য, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় শতভাগ মানসম্মত বই সরবরাহ নিশ্চিত করা।

নিম্নমানের বই বাতিল, মান যাচাইয়ে ৫৩টি দল

মুদ্রণপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বইয়ের মান বজায় রাখতে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন ছাপাখানায় মুদ্রিত বইয়ের গুণগত মান যাচাইয়ে এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ৫৩টি তদারকি দল কাজ করছে। মানদণ্ড পূরণ না করায় ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রেসের নিম্নমানের ফর্মা ও বই বাতিল করা হয়েছে।

এনসিটিবির তদারকি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন ছাপাখানায় নির্ধারিত মানের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ ফর্মা, বই এবং প্রচ্ছদ নষ্ট করা হয়েছে। মোট ৩৬টি প্রেসের ৯ লাখ ফর্মা এবং ১২ হাজার নিম্নমানের ছাপানো বই ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান বাসসকে বলেন, ‘এবার বইয়ের মানের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গুণগত মান বজায় না থাকায় আমরা সাড়ে ৯ লাখ নিম্নমানের ফর্মা ও ১২ হাজারের মতো বই বাতিল করেছি। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ মানসম্মত ও নিখুঁত বই উপজেলায় পৌঁছাতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

এনসিটিবির তদারকি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরের অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপার ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি কম। চুক্তি অনুযায়ী, ৩ নভেম্বরের মধ্যে এসব শ্রেণির ৫০ শতাংশ বই উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহ করার কথা। তবে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত এ ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি হয়নি। পিছিয়ে থাকা প্রেসগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবির কর্মকর্তারা।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বাসসকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হাতে যথাসময়ে বই পৌঁছে দিতে রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ চলছে। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের কাজ এ মাসের মধ্যেই ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হবে। আর মাধ্যমিকের বই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি পৌঁছে যাবে। প্রাক্‌-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় মাঠপর্যায়ে বই সরবরাহের কোনো জটিলতা তৈরি হবে না।’

তিনি আরও বলেন, অতীতে প্রেস ও মাঠপর্যায়ে অনিয়মের সুযোগ থাকলেও এবার বই গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সরাসরি মান যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বই গ্রহণের পর মানের কোনো বিচ্যুতি পাওয়া গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে।

সার্বিক বিষয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বাসসকে বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে কোনো নিম্নমানের কাগজের বই সরবরাহ বরদাশত করা হবে না। সরকার বাজারদর যাচাই করে যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করেছে, যাতে কেউ কম মূল্যের অজুহাতে নিম্নমানের বই তৈরির সুযোগ না পায়। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে এবার কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।