দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
আজ রোববার জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, চলতি বছরের ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ-ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে এনসিবি ঢাকা ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোলে আবেদন পাঠায়। পরে ইন্টারপোল তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষকে তাঁকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানায়।
মন্ত্রী আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ধারাসহ বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তদন্ত-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করেছে বলে সংসদকে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর প্রত্যর্পণ প্রস্তাব কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।
এই ঘটনাকে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।”
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্ব পালনকারী বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধান চলাকালে তিনি দেশ ত্যাগ করেন। তিনি ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।
বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

