২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স আহরণে তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭৫ শতাংশ।
সোমবার (২২ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে প্রায় ১৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি তাদের পরিবারের কাছে অর্থ পাঠাতে ব্র্যাক ব্যাংকের সেবা ব্যবহার করেছেন। প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ দেশের লাখো পরিবারের জীবনযাত্রা ও আর্থিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ব্যাংকটির দাবি, রেমিট্যান্স সংগ্রহে এই সাফল্য প্রবাসী বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দৈনন্দিন ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতেও রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
রেমিট্যান্স গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সঞ্চয় হিসাব ও বিভিন্ন আর্থিক পণ্য চালুর মাধ্যমে নিজেদের রেমিট্যান্স সেবা আরও শক্তিশালী করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। গ্রাহকেরা ডিজিটাল অনবোর্ডিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কয়েক মিনিটেই হিসাব খুলতে পারেন। এসব হিসাব ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপ ‘আস্থা’র মাধ্যমে পরিচালনা করা যায়।
ব্যাংকটির তথ্যমতে, এসব বিশেষ সঞ্চয় হিসাবের একটি সুবিধা হলো—অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ যাই হোক না কেন, গ্রাহকেরা নির্ধারিত হারে মুনাফা পান। এ মুনাফা মাসিক ভিত্তিতে প্রদান করা হয়।
রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে নতুন করিডোরে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর সংযোগ জোরদার করছে ব্র্যাক ব্যাংক। বর্তমানে দেশজুড়ে ব্যাংকটির ৩১০টি শাখা ও উপশাখা এবং ১ হাজার ১১৭টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দ্রুত গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থার কারণেই এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। প্রযুক্তি, অংশীদারত্ব ও গ্রাহকসেবার সমন্বয়ে রেমিট্যান্স সেবাকে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও সহজলভ্য করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
ব্র্যাক ব্যাংকের মতে, দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এটি যেমন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করে, তেমনি লাখো পরিবারের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

