অন্যের মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে সরকারি চাকরি পাওয়ার অভিযোগে নোয়াখালীতে দুই প্রার্থীকে আটক করা হয়েছে। নিয়োগপত্র পাওয়ার পর যোগদান করতে এসে তাদের আচরণ ও তথ্য-উপাত্তে অসংগতি ধরা পড়লে বিষয়টি সামনে আসে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার রাতে নোয়াখালীর মাইজদীতে কর অঞ্চল নোয়াখালীর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুই প্রার্থীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটক দুজন হলেন কামাল উদ্দিন ও নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুন। তারা যথাক্রমে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
কর অঞ্চল নোয়াখালীর উপকর কমিশনার এনামুল হাসান আল নোমান জানান, সম্প্রতি ১৩তম থেকে ২০তম গ্রেডের বিভিন্ন পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মেডিকেল রিপোর্টসহ যোগদানের জন্য ডাকা হয়। যোগদান প্রক্রিয়ার সময় দুই প্রার্থীর বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তাদের হাতের লেখা ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হয়।
প্রাথমিক যাচাইয়ে অসংগতি ধরা পড়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, নিয়োগ পরীক্ষায় তাদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি অংশ নিয়েছিলেন। এরপর তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় তারা একটি জালিয়াত চক্রের সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চুক্তি করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই চক্র পরীক্ষায় অন্য ব্যক্তিকে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করে দেয়। আবেদন প্রক্রিয়ার সময় প্রবেশপত্রে ছবি পরিবর্তনের মাধ্যমেও জালিয়াতির চেষ্টা করা হয় বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে প্রক্সি পরীক্ষার্থী চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিসুর রহমান বলেন, কর অঞ্চল কার্যালয় থেকে দুই ব্যক্তিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

