নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার পুরান অংশে দাঁড়িয়ে আছে চার শতকের পুরোনো স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন—লালবাগ কেল্লা। মুঘল আমলের এই অর্ধসমাপ্ত দূর্গ প্রতিদিনই আকর্ষণ করছে হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটককে।
শুক্রবার সকাল থেকেই দেখা গেছে, পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ ভিড় করছে কেল্লার প্রধান ফটকের সামনে। কেউ ইতিহাস জানতে এসেছে, কেউবা ছবিতে বন্দী করতে চায় এই প্রাচীন নগরীর রূপ।
লালবাগ কেল্লার পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “শীতকাল ঘনিয়ে আসছে, এই সময়টায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যায়। প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার হাজার মানুষ কেল্লা ঘুরতে আসছেন।”
মুঘল যুবরাজ আজম শাহ ১৬৭৮ সালে এই দূর্গ নির্মাণ শুরু করেন। তবে নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে দিল্লিতে ফিরে যেতে হয়। পরে গভর্নর শায়েস্তা খান কাজটি হাতে নেন, কিন্তু কন্যা পরীবিবির মৃত্যুতে কাজ থেমে যায়। সেই অসমাপ্ত কেল্লাই আজ ঢাকার ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষ্য।
দর্শনার্থী মেহেদি হাসান বলেন, “পুরান ঢাকার ভেতরেই এমন এক নিস্তব্ধ, ঐতিহ্যঘেরা জায়গা পাওয়া যায়, এটা অবিশ্বাস্য।”
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জানায়, কেল্লা সংরক্ষণ ও সংস্কারে একটি নতুন প্রকল্পের কাজ চলছে। আধুনিক আলোকসজ্জা, জলাধার পরিষ্কারকরণ এবং পর্যটকদের জন্য ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
লালবাগ কেল্লা আজও ঢাকার মানুষের গর্ব, ইতিহাসের ছোঁয়া আর স্মৃতির আশ্রয়।
লেখক : মোঃ আবু বককর সিদ্দিক

