কঙ্গো-এর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে পৌঁছেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ল্যাব পরীক্ষায় ইবোলার বিরল ‘বুন্ডিবুগিও’ ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, রুয়াম্পারা, মঙ্গওয়ালু ও বুনিয়া স্বাস্থ্য অঞ্চলে সংগ্রহ করা আটটি নমুনায় এই বিরল স্ট্রেইনের উপস্থিতি মিলেছে। ইতুরি প্রদেশজুড়ে এখন পর্যন্ত ২৪৬টি সন্দেহজনক সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা, বুনিয়ার একটি মেডিকেল সেন্টারের এক নার্স প্রথম আক্রান্ত হন। জ্বর, বমি, রক্তক্ষরণ ও তীব্র দুর্বলতার উপসর্গ নিয়ে সম্প্রতি তাঁর মৃত্যু হয়।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, গত ৫ মে সন্দেহজনক সংক্রমণের খবর পাওয়ার পর একটি তদন্ত দল পাঠানো হয়। প্রথম দফার পরীক্ষায় নমুনাগুলো নেগেটিভ এলেও পরে রাজধানী কিনশাসার ল্যাবে পুনরায় পরীক্ষায় ১৩টি নমুনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি তহবিল থেকে ৫ লাখ ডলার সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে Africa Centres for Disease Control and Prevention-এর মহাপরিচালক Jean Kaseya প্রতিবেশী Uganda ও South Sudan-এর সঙ্গে দ্রুত সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, বুনিয়া ও রুয়াম্পারার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং খনি অঞ্চলে মানুষের ব্যাপক চলাচল সীমান্তজুড়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
১৯৭৬ সালে কঙ্গোয় প্রথম ইবোলা শনাক্ত হওয়ার পর এটি দেশটিতে ভাইরাসটির ১৭তম প্রাদুর্ভাব। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে ব্যবহৃত অধিকাংশ টিকা ও চিকিৎসা পদ্ধতি ‘জাইরে’ ভ্যারিয়েন্টকে কেন্দ্র করে তৈরি। ফলে নতুন ‘বুন্ডিবুগিও’ স্ট্রেইন মোকাবিলা করা চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

