“এত শিক্ষিত হয়েও পিঠা বিক্রি?”—একসময় এমন মন্তব্য শুনেছিলেন সাকিয়া হাশমি জ্যাকী। কিন্তু এখন সেই কথাই তাঁর অনুপ্রেরণা। আজ তিনি নরসিংদীর সফল নারী উদ্যোক্তাদের একজন, পেয়েছেন জাতীয় স্বীকৃতিও।

শিক্ষিত নারী থেকে উদ্যোক্তা
ইতিহাস বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স করা সাকিয়া হাশমি জ্যাকীর জীবনে বড় মোড় আসে পড়াশোনা শেষে। চাকরি না পেয়ে হতাশায় ছিলেন, ঠিক তখনই ছোট বোন মুনিয়া ফেরদৌস চৈতি বলেন,
“আপু, তুমি নিজের কাজ শুরু করো। তোমার হাতে অনেক কিছু পারা আছে।”
সেই কথাই আজ তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট।
‘নানাবিধ’ থেকে শুরু
শৈশব থেকেই সৃজনশীল সাকিয়া। কখনো পুতির শোপিস, কখনো সেলাই, ব্লক-বাটিক বা ঘরোয়া খাবার—সবকিছুতেই ছিল তাঁর হাতের ছোঁয়া। সেই শখই একসময় পেশায় রূপ নেয়।
তিনি শুরু করেন নিজের উদ্যোগ, নাম দেন “নানাবিধ”। এখন তিনি কাজ করছেন নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী নকশি পিঠা, ঘরোয়া খাবার ও সুঁই-সুতার পোশাক নিয়ে।
ছাদের প্রদর্শনী থেকে পৌর পার্কে
২০২৩ সালে সাকিয়া হাশমি জ্যাকী, সাবরিনা সরকার ও আয়েশা আক্তার পলি মিলে গড়ে তোলেন একটি প্ল্যাটফর্ম—
“নরসিংদী জেলা নারী উদ্যোক্তাদের মেলা”।
প্রথম প্রদর্শনী হয়েছিল সাবরিনা সরকারের বাড়ির ছাদে, মাত্র ১২ জন উদ্যোক্তাকে নিয়ে। পরের আয়োজন হয় সাকিয়ার বাড়ির ছাদে, অংশ নেয় ১৮ জন। ধীরে ধীরে এই ছোট আয়োজন রূপ নেয় বিশাল এক নারীদের ব্যবসায়িক আন্দোলনে।
এখন প্রতি শনিবার নরসিংদী পৌর পার্কে হয় তাদের নিয়মিত মেলা। তিন লাখের বেশি সদস্যের এই গ্রুপে এখন ৩০০ জনেরও বেশি উদ্যোক্তা নিয়মিতভাবে অংশ নিচ্ছেন। তাদের উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলাতেও এমন প্রদর্শনীর আয়োজন হচ্ছে।
জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি
অদম্য পরিশ্রমের ফল মিলেছে। ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক এসএমই দিবসে সাকিয়া হাশমি জ্যাকী নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের সেরা ২০ নারী উদ্যোক্তার একজন হিসেবে।
এই অর্জনের পেছনে তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পরামর্শদাতা কামাল হাসান শিমুল–এর প্রতি।
বোনই অনুপ্রেরণা
ভবিষ্যতের লক্ষ্য
সাকিয়া হাশমি জ্যাকীর লক্ষ্য শুধু নিজের সাফল্য নয়—
তিনি চান, নারীরা যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে এবং নরসিংদী হয়ে উঠুক নারী উদ্যোক্তাদের শক্তিশালী কেন্দ্র।

