৪ হাজার টাকায় শুরু, এখন শত নারীর অনুপ্রেরণা
নিজস্ব প্রতিবেদক : রঙ, নকশা আর তুলি—এই তিনের মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছে আয়েশা আক্তার পলির স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ‘রঙের হাঁড়ি’। রাজধানী ঢাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা পলির শৈশব থেকেই রঙের প্রতি ছিল এক অদম্য টান। সৃজনশীলতার সেই ভালোবাসাই আজ তাঁকে এনে দিয়েছে একজন সফল নারী উদ্যোক্তার পরিচয়।
শুরুটা নকশি ওয়ালম্যাট দিয়ে
উদ্যোক্তা জীবনের সূচনা ২০০৫ সালে। পরের বছর থেকেই হাতে-কলমে শিখে নিয়েছেন হ্যান্ড পেইন্ট, ব্লক, বাটিক, টাই-ডাই, স্ক্রিন প্রিন্ট ও গ্লাস পেইন্টের মতো শিল্পকৌশল।
“পেইন্ট জগতের প্রতিটি শাখায় নিজেকে ডুবিয়ে দিয়েছি ভালোবাসা দিয়ে,” বলেন পলি।
তাঁর তৈরি পণ্যের নকশায় যেমন আছে ঐতিহ্যের ছোঁয়া, তেমনি আধুনিকতারও মিশেল।

পরিবার, পড়াশোনা ও কর্মজীবন—সব সামলে এগিয়ে যাওয়া
১০ বছরের শিক্ষকতা জীবনে পড়াশোনা ও সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে কিছু সময়ের জন্য সৃজনশীল কাজ থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল পলিকে। তবু, সুযোগ পেলেই রঙ আর তুলি নিয়ে বসতেন।
“রঙের সঙ্গে আমার সম্পর্ক কখনোই ছিন্ন হয়নি,” তিনি বলেন হাসতে হাসতে।
পরে সন্তানদের উন্নত শিক্ষার জন্য নিজ গ্রামের বাড়ি ছেড়ে নরসিংদী সদরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এখানেই শুরু হয় তাঁর দ্বিতীয় উদ্যোক্তা অধ্যায়।
করোনাকালে নতুন করে পথচলা
করোনার কঠিন সময়ে, মাত্র ৪ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে আবার শুরু করেন তিনি—হ্যান্ড পেইন্টেড পোশাক, ব্লক ও স্ক্রিন প্রিন্টের কাজ।
সেই ছোট্ট উদ্যোগই আজ “রঙের হাঁড়ি”-কে দেশের নারীদের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম করে তুলেছে।
নারীর স্বাবলম্বনে ‘রঙের হাঁড়ি’
বর্তমানে আয়েশা আক্তার পলি শুধু নিজের প্রতিষ্ঠান নিয়েই কাজ করছেন না, বরং অন্য নারীদেরও স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখাচ্ছেন।
তাঁর পরিচালিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রতি মাসে অসংখ্য নারী শেখেন হ্যান্ড পেইন্ট, ব্লক ও ফ্যাব্রিক ডিজাইনের কাজ। এভাবেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে একদল নতুন উদ্যোক্তা।
“আমি চাই, আমার শেখানো দক্ষতায় অন্য নারীরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াক,” বলেন পলি।
রঙের হাঁড়ি শুধু একটি ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান নয়—এটি এক নারীর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি।
আয়েশা আক্তার পলির গল্প প্রমাণ করে, স্বপ্ন আর সংকল্প থাকলে ছোট পুঁজিও বড় সাফল্যে রূপ নিতে পারে।


