রান্নার প্রতি ভালোবাসা আর নিরলস পরিশ্রম—এই দুই শক্তির ওপর ভর করেই গড়ে উঠেছে উদ্যোক্তা ও রন্ধনশিল্পী আরমিনা খানমের পথচলা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে তাঁর শৈশব, কৈশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে। কৈশোর বয়সেই পড়াশোনার ফাঁকে রান্নাঘরে উঁকি দেওয়ার মধ্য দিয়ে রান্নার সঙ্গে তাঁর সখ্যতা গড়ে ওঠে। রান্নার বুয়ার কাজে সহায়তা করতে করতেই তৈরি হয় এই আগ্রহ। ছোটবেলায় স্কুলের চেয়ে রান্নাঘরেই তাঁর টান ছিল বেশি। পরে মায়ের অসুস্থতা তাঁকে রান্নার কাজে আরও মনোযোগী করে তোলে। পরিবারের জন্য প্রতিদিন সুস্বাদু খাবার তৈরি করতে গিয়ে রান্না হয়ে ওঠে তাঁর নেশা।
পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে ডিগ্রি পাস করেন আরমিনা খানম। নিজ উদ্যোগে দেশি খাবারের পাশাপাশি চাইনিজ, ইন্ডিয়ান ও ঝটপট ফাস্টফুড তৈরিতে নিজস্ব ভিন্নতা আনার চেষ্টা চালিয়ে যান। নতুন নতুন রেসিপি উদ্ভাবনের এই প্রবণতাই ধীরে ধীরে তাঁকে আলাদা পরিচয় এনে দেয়। ঢাকায় বসবাস ও বিয়ের পর রান্নার প্রতি তাঁর আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। এরপর সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে একের পর এক সরকারি উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণে অংশ নেন তিনি। তিন বছর মেয়াদি এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে রান্না ও বিউটিফিকেশন—দু’টিই ছিল উল্লেখযোগ্য। পরে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) অধীনে ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লেভেল–৩ সম্পন্ন করে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলেন।
রন্ধনশিল্পে উদ্ভাবনী চিন্তা, কঠোর পরিশ্রম ও সততাকেই সাফল্যের মূলমন্ত্র বলে মনে করেন আরমিনা খানম। তাঁর এই পথচলায় বড় প্রেরণা হিসেবে পাশে আছেন তাঁর কন্যা লাবিবাহ মাহজাবীন আভা। আরমিনা খানম বলেন, “উদ্যোক্তা রন্ধনশিল্পীর জীবন হলো শখ, দক্ষতা, উদ্ভাবন, পরিশ্রম আর ঝুঁকি গ্রহণের এক সফল মেলবন্ধন। চলমান জীবনে সাফল্যের পূর্ণ মূল্যায়ন করা যায় না; হয়তো জীবনের শেষ প্রান্তে গিয়ে তার হিসাব মিলবে।”
নিজের শ্রম ও ভালোবাসার সমন্বয়ে আরমিনা খানম আজ প্রমাণ করেছেন—রান্নাঘরের শখও হয়ে উঠতে পারে একজন নারীর আত্মপরিচয় ও উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার শক্ত ভিত।

