নিজস্ব প্রতিবেদক – কাপাসিয়া, গাজীপুর থেকে উঠে আসা একজন উদ্ভাবনী নারী উদ্যোক্তা—নাদিয়া আক্তার, যিনি “Nasima’s Calligraphy Arts” পেজের মাধ্যমে আরবি ও বাংলা ক্যালিগ্রাফি শিল্পকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হলেও তার স্বপ্ন, দক্ষতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি তাকে একটি স্বতন্ত্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলেছে।
নাদিয়ার জন্ম ও শৈশব নানা শহরে ভ্রমণের সঙ্গে জড়িত। জন্মসূত্রে বগুড়ার মেয়ে হলেও বড় হয়েছে ময়মনসিংহে, এবং বর্তমানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন কাপাসিয়ায়। ছোটবেলা থেকেই তিনি বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—গান, কবিতা, ছবি আঁকা, অভিনয় এবং সেলাই। শখ হিসাবে শুরু হওয়া এসব দক্ষতা পরবর্তীতে তার উদ্যোক্তা যাত্রায় পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে।
নাদিয়ার জীবনে প্রতিকূলতা কম ছিল না। বিয়ের পর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, দুটি বাচ্চা, সংসার, চাকরি এবং পরিবারের জটিলতা—সব মিলিয়ে এগুলো সহজ ছিল না। তবুও তিনি থেমে থাকেননি। ফেসবুকে আরবি ক্যালিগ্রাফির প্রতি আগ্রহ জন্মানোর পর Noor Calligraphy নামের একটি অনলাইন কোর্সে ভর্তি হন। কোর্সের প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আলী সুমনের সহায়তায় এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণে তিনি ক্যালিগ্রাফি টেস্টে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
নাদিয়া জানালেন, “পরিবার এবং আশেপাশের মানুষের বাধা ও মন্তব্য সত্ত্বেও আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। এখন অর্ডারের কাজ পাচ্ছি এবং সম্প্রতি আমার আরবি ও বাংলা ক্যালিগ্রাফি শিল্পকলা একাডেমির প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যদি আমি করতে পেরি, তবে আপনারাও পারবেন। ঘরে বসে না থেকে নিজের দক্ষতার উপর কাজ শুরু করুন। নারীরাও সব পারে—এখনই বিশ্বের কাছে এটি প্রমাণ করার সময়।”
কাপাসিয়ার নারী উদ্যোক্তা গ্রুপের সদস্য হিসেবে নাদিয়া অন্য নারী উদ্যোক্তাদেরও অনুপ্রাণিত করছেন। তার গল্প প্রমাণ করে, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, দক্ষতা এবং সুযোগকে কাজে লাগানোর মনোভাব থাকলে জীবন যেকোনো চ্যালেঞ্জকে জয় করা সম্ভব।

