একটানা অতিবৃষ্টি ও সাম্প্রতিক বন্যায় সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হয়েছে। এর প্রভাবে কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন শাকসবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় জেলার বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ক্ষেতের সবজি পচে গেছে, আবার কোথাও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় কাঁচামরিচসহ অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে।
দাম বাড়ায় বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে সবজির দাম বাড়লেও ক্ষতির মুখে পড়া কৃষকদের সেই ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরাও সরবরাহ সংকটের কারণে চাপে রয়েছেন।
জেলা সদরের বড়বাড়ী ও পৌরসভার গোশালা বাজারের পাইকারি আড়তে বৃহস্পতিবার সকালে প্রতি ধারা (৫ কেজি) কাঁচামরিচ ৮০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। সে হিসাবে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজির দাম ১৬০ টাকা। একই পণ্য খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৪০ টাকায়।
সেনামৈত্রী হকার্স মার্কেটের খুচরা ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও শাহাবুদ্দিন হক বলেন, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ২৪০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য, বারবার বন্যায় কৃষকদের সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজির উৎপাদন কমেছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে।
বড়বাড়ী সবজি আড়তের পাইকারি ব্যবসায়ী আশরাফুল হক বলেন, অতিবৃষ্টিতে উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে ঢাকাসহ বড় বাজারে দাম বেড়েছে। এর প্রভাব লালমনিরহাটের বাজারেও পড়েছে।
গোশালা বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি করতে আসা কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, অতিবৃষ্টিতে অধিকাংশ সবজি নষ্ট হওয়ায় তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে যাঁরা কিছু ফসল রক্ষা করতে পেরেছেন, তাঁরা বর্তমানে তুলনামূলক ভালো দাম পাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানান তিনি।
সেনামৈত্রী হকার্স মার্কেটের ক্রেতা আলমুদ্দিন ও নিজামি রহমান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আয়ের তুলনায় সংসারের ব্যয় বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
জেলার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, পটল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ছোট করলা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ভেন্ডি ১০০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, চালকুমড়া প্রতি পিস ৫০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ২০ টাকা, লালশাক প্রতি কেজি ৬০ টাকা, কচুর লতি ৪০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ টাকা, কলমিশাক প্রতি আঁটি ১০ টাকা, তরই ৫০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা, ধনিয়াপাতা প্রতি পোয়া ১০০ টাকা, রসুন ৮০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা, আদা ২০০ টাকা এবং শুকনা মরিচ প্রতি পোয়া ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে শহর ও গ্রামাঞ্চলের বাজারভেদে দামে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।
আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার বাজারগুলোতেও সবজির দাম প্রায় একই রয়েছে বলে জানা গেছে।
বড়বাড়ী সবজি আড়তের ইজারাদার মোশারফ আলী বলেন, বৃষ্টির কারণে আড়তে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কাঁচামরিচসহ অন্যান্য সবজির দামও কমে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বন্যার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। তবে মাঠের পানি নেমে গেলে উৎপাদন ও বাজারে সরবরাহ বাড়বে। তখন কাঁচামরিচসহ অন্যান্য সবজির দামও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।

