বাংলা চলচ্চিত্রের ‘মহানায়ক’ উত্তম কুমারের জন্মদিন আজ। ১৯২৬ সালের এই দিনে জন্মেছিলেন তিনি। তাঁর আসল নাম ছিল অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। তবে সিনেমায় এসে তিনি উত্তম কুমার নাম ধারণ করেন। আর এই নামেই জয় করেছেন দর্শকের হৃদয়।
উত্তম কুমার শুধু তাঁর সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতাই ছিলেন না। যুগের পর যুগ পেরিয়ে আজও তিনি বাঙালির কাছে সমান আবেগ ও ভালোবাসার মানুষ। এখনো তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিনে আবেগাক্রান্ত হন দর্শকেরা।
দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসানও মনে করেন, সত্যিকার অর্থেই একজন আইকন ছিলেন উত্তম কুমার। ‘মহানায়ক’-এর জন্মদিনে জয়া তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘“আইকন” শব্দটির যদি কোনো সার্থক বাংলা প্রতিশব্দ খুঁজতে হয়, তবে সেই শব্দ বা নামটি অবশ্যই উত্তম কুমার। একশ বছর পরেও বাংলা সিনেমায় তাঁর মতো উজ্জ্বল সর্বগ্রাসী উপস্থিতি নজিরবিহীন।’
জয়া আহসান আরও লিখেছেন, ‘তিনি শুধু একজন অভিনেতা বা নায়ক ছিলেন না—একজন শিল্পীর যে বহুমাত্রিক সত্তা, তারই এক অনন্য সমন্বয় তাঁর ব্যক্তিত্বে। পর্দায় তাঁর অভিনয় যেমন দর্শককে মুগ্ধ করেছে, পর্দার বাইরেও তাঁর ব্যক্তিত্ব তৈরি করেছে এক স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক অভিঘাত।’
জয়ার মতে, শুধু জনপ্রিয়তা দিয়ে উত্তম কুমারের প্রভাব ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘জনপ্রিয়তা তাঁকে মহানায়ক করেছে; কিন্তু শুধু জনপ্রিয়তা তাঁর পরিচয়ের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা নয়। তিনি বাঙালির মনের নায়ক; এমন এক প্রতীক, যার সঙ্গে বাঙালির পুরুষত্ব, ব্যক্তিত্ব, সৌন্দর্য এবং আত্মবিশ্বাসের একটি বিশেষ আবেগ আজও জড়িয়ে আছে।’
কালজয়ী এই অভিনেতাকে নিয়ে সবশেষে জয়া লিখেছেন, ‘সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, বাংলা সিনেমার ভাষাও বদলেছে। কিন্তু উত্তম কুমার নির্মিত সেই মিথ এখনও অমলিন। জন্মশতবর্ষে মহানায়ককে শ্রদ্ধা। ভালোবাসা ও নিরন্তর মুগ্ধতার এই ঋণ কখনও ফুরোনোর নয়।’
প্রসঙ্গত, উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কলকাতায় নানা আয়োজন হয়েছে। উৎসবের আমেজে তাঁকে স্মরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশেও সাধারণ দর্শক ও তারকারা সামাজিক মাধ্যমে এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে স্মরণ করেছেন।


