দেশের চামড়া শিল্পে বছরে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, এই সম্ভাবনাময় খাতকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। যথাযথ পরিকল্পনা, পরিবেশগত মান রক্ষা এবং শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা গেলে চামড়া শিল্প দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে।
রোববার (১৭ মে) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চামড়া শিল্প খাতের উন্নয়ন ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে গঠিত টাস্কফোর্সের নবম সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, গবেষক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের চামড়া শিল্পে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও গত কয়েক বছরে নানা কারণে সেই সম্ভাবনার বড় অংশ নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো পরিবেশবান্ধব ছিল না, তবে সেগুলো সাভারে স্থানান্তরের সময় প্রয়োজনীয় পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল। ফলে স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। অনেক কারখানাই এখনো সাভারে যায়নি।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্য কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছে না। এর প্রধান কারণ কমপ্লায়েন্সের অভাব। দেশে উৎপাদিত মোট চামড়ার মাত্র শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ রপ্তানি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই রপ্তানি অন্তত ২০ গুণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পরিবেশগত মান নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশ থেকে পণ্য কিনতে আগ্রহ দেখান না।
মন্ত্রী বলেন, সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পুরোপুরি কার্যকর করতে হবে। এজন্য বিদ্যমান প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় সিইটিপিকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার এ খাতে শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
চামড়া শিল্পে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এ খাতে বিনিয়োগ করলে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে। তিনি বলেন, ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে যেখানে একটি ট্যানারি শিল্পে ৫০০ থেকে ১ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে, সেখানে একই পরিমাণ অর্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করলেও তুলনামূলক কম কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
সভায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলেন, ইউরোপীয় ক্রেতাদের মধ্যে ধারণা রয়েছে যে বাংলাদেশে বনভূমি দখল করে ট্যানারি গড়ে তোলা হয়েছে। এ কারণে তারা বাংলাদেশ থেকে চামড়া কিনতে অনাগ্রহী। তারা এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে রিসাইকেল খাতে প্রণোদনা দেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।
সভায় উপস্থিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের পর চামড়া শিল্প বাংলাদেশের জন্য অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে। তবে পরিবেশ রক্ষা করেই এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে।

