নাম: মাছুমা আক্তার
পেইজি: মাসুমাশিপন (MasumaShipon)
আসসালামু আলাইকুম
আমি মাছুমা শিপন, কাজ করছি মাধবদীর নরসিংদী জেলা থেকে
২০২১ সালে আমার উদ্যোক্তা জীবনের যাত্রা শুরু হয়। অনলাইনে দেখতাম অনেকেই বিভিন্ন প্রোডাক্ট নিয়ে বিজনেস করছে। ভাবলাম আমি কেন বসে থাকবো, একবার চেষ্টা করে দেখা যাক। শুরুতে ভেবে দেখলাম, কোন বিষয়টিতে আমি বেশি পারদর্শী তখন মাথায় এলো নকশী পিঠার কথা। ছোট থেকেই নিজের বাড়িতে দেখে এসেছি,নিজে বানিয়েছি। তাই ভাবলাম এটা নিয়ে শুরু করি। শুরুটা এত সহজ ছিল না, পরিবার, সমাজের মানুষের একেকরকম কথাবার্তা। কিন্তু তাদের কথায় আমি দমে যাইনি। নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি। এবং আমি আমার পরিচিতি বাড়াতে সক্ষম হয়েছি, বিভিন্ন গ্রুপে জয়েন হয়েছি, রেগুলার পোস্ট করেছি। আগে মানুষ শুধু অকেসনালি নকশি পিঠা খেলেও, বর্তমানে মানুষ রেগুলার ই এটি খেতে পছন্দ করেন। এটি ছিল আমার জন্য অনেক বড় একটি সুযোগ। রেগুলার পোস্টের মাধ্যমে আমার রেগুলার অর্ডার আসতে থাকে। একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নিজেকে পরিচিত করা, নিজের পণ্যকে পরিচিত করা। আলহামদুলিল্লাহ আমি সেটি করতে সক্ষম হয়েছিলাম। প্রথম অর্ডারটা পাওয়ার অনুভূতি ছিল অসম্ভব সুন্দর। হঠাৎ করে একদিন একটা কল আসে, আমার এক আত্মীয় আমার কাছ থেকে প্রথম বারের মত দশ পিস নকশী পিঠা অর্ডার করেন, এটি ছিল আমার বিজনেসে প্রথম অর্ডার। আলহামদুলিল্লাহ, আমি প্রথম অর্ডারে অনেক ভালো রিভিউ পাই। আমার পেজ আলাদা করে চেনার জন্য আমি স্বাদ ও প্রেজেন্টেশনে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কারণ প্রথম একজন কাস্টমার পেইজে দেখে খাবারের রিভিউ এবং প্রেজেন্টেশন। বর্তমানে মানুষ অনলাইনে খাবার অর্ডার করার আগে চেক করে খাবারের রিভিউ কেমন। সেটা দেখে পরে অর্ডার করে। আমি ব্যাবসা শুরুর দিকে প্রেজেন্টেশন এতটা গুরুত্ব দেইনি, তাই আমার পিঠার ছবিগুলো খুব বেশি ভালো হতো না। তাই আমি নতুন উদ্যোক্তাদের বলতে চাই আগে আপনি আপনার পরিচিতি বাড়ান, দ্বিতীয়ত আপনি আপনার প্রোডাক্টের প্রেসেন্টেশন সুন্দর করুন। এতে করে প্রোডাক্টের অর্ডার দ্রুত আসবে ও মানুষ আপনার প্রোডাক্ট পছন্দ করবে। প্রথমে ঘরের কাজ রান্না বান্না করে ব্যাবসা করাটা কিছুটা কঠিন ছিল, কিন্তু সময় সাথে সাথে দুইটাকে একসাথে গুছিয়ে নিয়েছি। এই বিজনেস শুরু করার জন্য প্রথম থেকে অনুপ্রেরণা দিয়ে এসেছে আমার মেয়ে, স্বামী ও আমার এক বান্ধবী, তাদের অনুপ্রেরণায় আজ আমি এই পর্যায়ে। নিজেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে এই তিনজন মানুষ। বর্তমানে আমার কাজ দেখে, অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক গৃহিণী ব্যবসায়ের উদ্যোগ গ্রহণ করছেন, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। আমি নতুন উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দিব-আপনার শুরুতেই সেল না হওয়াতে হতাশ হবেন না, শুরুতে নিজেকে, নিজের পণ্যকে সবার মাঝে পরিচিত করে তুলুন, আপনার আশেপাশের মানুষকে, আত্মীয়-স্বজনকে জানান যে আপনি এই পণ্য নিয়ে বিজনেস করছেন। শুরুতে যারা আপনাকে জানে তারাই আপনার পণ্যটি কিনবেন, তাদের রিভিউ দেখে আরো মানুষ আপনার থেকে প্রোডাক্ট নেওয়ার কথা চিন্তাভাবনা করবেন। তাই প্রথমে নিজেকে পরিচিত করে তুলুন। পড়াশুনায় থাকা অবস্থায় ইচ্ছা ছিল কখনো চাকরি করব না, নিজে কিছু তৈরি করব, নিজের বিজনেস হবে এমন একটা টার্গেট ছিল জীবনে। আর আমার এই টার্গেট পূরণ করতে আমার পরিবারের মানুষ আমাকে সর্বোচ্চ প্রেরণা দিয়েছে আমার স্বামী ,আমার দুই মেয়েরা। বিজনেসের কাজে আমার মেয়েরা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। আমার ইচ্ছা আমার তৈরি নকশী পিঠা দেশের সব জায়গায় পৌঁছে দেওয়া। এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও যেন আমার পণ্য পৌঁছে দিতে পারি। এখন অবশ্য হাতে হাতে কয়েকবার আমার তৈরি নকশি পিঠা দেশের বাইরে গিয়েছে, কিন্তু আমি চাই সরাসরি যেন দেশ থেকে বিদেশে পৌঁছাতে পারি, এটাই আমার লক্ষ্য। এতে করে শুধু আমার অর্থই অর্জিত হবে না, আমার পণ্যের পরিচিতও ব্যাপকভাবে বাড়বে। শুধু অর্থ অর্জনের মাধ্যমেই ব্যবসায় সাফল্য অর্জন হয় না, ব্যবসায়ে সাফল্য তখনই অর্জন হয় যখন মানুষের মুখে মুখে আপনার পণ্যের সুনাম থাকে। আমার মতে, একজন ব্যবসায়ীর সফলতা এখানেই হওয়া উচিত। সবশেষে আমি সকল গৃহিণীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ঘরে বসে না থেকে আপনি যা পারেন, যে বিষয়ে আপনার পারদর্শিতা বেশি , সেটি নিয়েই কাজ শুরু করুন। ব্যবসায়ের প্রথম দিনেই সফলতা অর্জন করা যায় না, সেটা নিয়ে ব্যর্থ হয়ে গেলে চলবে না। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে তাহলে নিশ্চয়ই একদিন আপনার সফলতা আসবে, ইনশাআল্লাহ।

