পত্রিকার পাতা
ঢাকাসোমবার , ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

আমবাগানে সাথী ফসল হিসেবে আনারস চাষে সাফল্য, নওগাঁয় উন্মোচিত হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা

Main Admin
জুলাই ২৬, ২০২৬ ৮:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আমবাগানের ফাঁকা জায়গায় সাথী ফসল হিসেবে সুমিষ্ট আনারস চাষে সাফল্য পেয়েছেন নওগাঁর কৃষকেরা। এতে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত তৈরি হয়েছে। আমবাগানের অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে আনারস চাষ জেলার কৃষি উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত করছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর পোরশা, সাপাহার ও পত্নীতলা উপজেলার দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি আনারস চাষের জন্য উপযোগী। কম খরচে বেশি ফলন হওয়ায় এ অঞ্চলে আনারস চাষ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আমগাছের মাঝের ফাঁকা জায়গায় এমবি-২ ও হানিকুইন জাতের আনারস চাষ করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, প্রথমবার আনারসের চারা রোপণের পর ফল পেতে ১৫ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। একই জমিতে দুটি ফসল উৎপাদন হওয়ায় কৃষকদের আয় ও জমির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভালো ফলনের কারণে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আনারস সরবরাহ করা হচ্ছে। একবার চারা রোপণ করলে কয়েক বছর ধরে ফলন পাওয়া যায়। এখানকার আনারস অত্যন্ত মিষ্টি ও সুস্বাদু।

পোরশা উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রায়হান সিদ্দিক জেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করে সফল হয়েছেন।

বাসসকে রায়হান সিদ্দিক বলেন, ‘২০২৪ সালে জেলার বদলগাছী হর্টিকালচার সেন্টার থেকে তিন হাজার আনারসের চারা এনে বর্ষাকালে রোপণ করি। এরপর আর সেচ দিতে হয়নি। শুরু থেকে শুধু আগাছা পরিষ্কার ও দুই-একবার কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই গাছে আনারস ধরেছে। এখন পর্যন্ত ১০ হাজার টাকার আনারস বিক্রি করেছি। আরও প্রায় এক লাখ টাকার আনারস বিক্রি করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘আগামীতে আরও বড় পরিসরে আনারস চাষ করব। আমরা টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আনারস এনে এ জেলার চাহিদা পূরণ করি। আমের রাজধানী নওগাঁয় যদি আনারসের চাষ বাড়ে, তাহলে স্থানীয় উৎপাদন দিয়েই জেলার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।’

মান্দা উপজেলা থেকে আনারস দেখতে আসা দর্শনার্থী ও তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুস সোবহান বাসসকে বলেন, ‘শুনেছি এ জেলায় প্রথমবার আনারসের চাষ হয়েছে। তাই দেখতে এসেছি। রায়হান ভাই তাঁর ক্ষেতের আনারস খেতে দিয়েছেন। খুবই মিষ্টি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমিও আনারসের চাষ করব।’

দর্শনার্থী তাসনিম বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চল নওগাঁয় যে আনারস চাষ হয়, তা আগে কখনো দেখিনি। আনারসের কথা শুনে এসেছিলাম। খেয়ে দেখলাম, অসাধারণ স্বাদ। এখানকার আনারস এতটা মিষ্টি হবে, তা ভাবিনি।’

ফল ব্যবসায়ী ইয়াছিন আলী বাসসকে বলেন, ‘আমরা সারা বছর বিভিন্ন ফলের ব্যবসা করি। এ জেলায় প্রথম রায়হান ভাই আনারস চাষ করেছেন। আমরা তাঁর কাছ থেকে আনারস কিনতে এসেছি। ফলন ভালো হয়েছে, দামও ভালো।’

রায়হানের বাগানে কর্মরত শ্রমিক মোতাহার মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ আমবাগানে কাজ করছি। আমগাছের পাশাপাশি আনারসেরও পরিচর্যা করি। এ জেলার মাটি আনারস চাষের জন্য বেশ উপযোগী।’

পোরশা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সামিরুল ইসলাম বলেন, আমবাগানে সাথী ফসল হিসেবে সুমিষ্ট আনারস চাষ করা সম্ভব—এর উজ্জ্বল উদাহরণ রায়হান সিদ্দিক। তিনি জেলায় প্রথম আমবাগানের ফাঁকা জায়গায় আনারস চাষ করেছেন। তাঁর বাগানের গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। ফলে ফলনও ভালো হয়েছে। এভাবে জেলার আমবাগানগুলোতে আনারস চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রথমবার আনারস ধরতে ১৫ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। এরপর প্রতি বছর ফল পাওয়া যায়। নতুন করে চারা রোপণ করতে হয় না। বরং একটি গাছ থেকে চার থেকে পাঁচটি ক্রাউন পাওয়া যায়। সেগুলো চারা হিসেবে বিক্রি করা যায় কিংবা অন্য জমিতে রোপণ করা যায়।’

তিনি আরও জানান, কৃষি উদ্যোক্তা রায়হান সিদ্দিককে কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।