আসসালামু আলাইকুম।
আমি শারমিন আক্তার রিমা। আমার পেজ ও আইডির নাম: ১/ Sanjena Cake House , ২/ ফারজিয়া নকশীঁ ঘর। আমি একজন গৃহিণী ও উদ্যোক্তা। আমি ফেনী, ছাগলনাইয়া থেকে ব্যবসা পরিচালনা করছি। আমার পেজে হোমমেড কেক আর নকশীকাঁথা সেল করি। আমি ২০১৮ সাল থেকে নকশীকাঁথার কাজ করছি। ২০২৪ সাল থেকে হোমমেড কেক সেল করছি, উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছি।
সেই সময় আমি অনেক প্রতিবন্ধকতা পার করে এসেছি। সবচাইতে বেশি আমার উদ্যোক্তা জীবনে আমাকে সহযোগিতা করেছে আমার মা আর ছোট ভাই। আমার এগিয়ে যাওয়ার পথে অনুপ্রেরণা আমার মা আর ছোট ভাই।
নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আমার কাছে অর্থনৈতিক ছিল। কারণ, আগে সখ করে নকশীকাঁথা সেলাই করতাম। তখন আমার স্বামী ছিল। আমার স্বামী ২০২৪ সালে মারা যায়। তখন আমি ছেলে-মেয়েদের নিয়ে অনেক সমস্যার মধ্যে পড়ে যাই। ভাবতে থাকি, কী করবো? তাদের কীভাবে ভালো রাখবো? পরে সুমি আপুর কাছ থেকে কেক বানানো শিখি। শেখার পর আমি টাকার জন্য কাজটা শুরু করতে পারছিলাম না। পরে অল্প অল্প করে টাকা জমাই। আমি ৩ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম।
এরপর সামাজিক দিকও ছিল। কেক ডেলিভারি দিতে গেলে, তারপর জিনিস কিনতে গেলে মানুষ নানান খারাপ কথা বলতো। একেতো স্বামী নাই, তার মধ্যে কম বয়স। দিন দিন বাধা পড়লো। আমি পিছাইনি। কারণ, আমি যদি মানুষের কথা ধরে বসে থাকি, সামনে এগোতে পারবো না।
আমি কাজ শেখার ২ দিন পর আমার বানানো প্রথম কেক ছাদে ছবি তুলতে যাই। আমার পাশের বাসার একটা ভাইয়া দেখে। উনি প্রথম অর্ডারটা দিলেন। আমি কেকটা বানানোর পর ঠিকভাবে কাজটা করতে পারছিলাম না। একটু চেষ্টার পর পারলাম। পরে ভয় পাচ্ছিলাম, কেমন হলো, মজা হলো কিনা। পরে আমি সুমি আপুকে কল দিলাম। ওনার সাহসে কেকটা দিলাম। সবাই ভালো বলছে।
আমি আমার পেজকে আলাদা করে চেনার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আর স্বাদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেই।
ব্যবসা শুরুর সময় লাভের হিসেব না করে দাম বলতাম। পরে দেখি লাভ থাকছে না। তাই হিসেব করে দামটা দিবেন, আর সফল হবেন কিনা চিন্তা করবেন না। এগিয়ে যাবেন, সফল হবেন। পিছিয়ে গেলে তো হেরে গেলেন।
রান্না, বাচ্চাদের সামলানো আর ব্যবসা—আমিতো বাবার বাড়িতে থাকি। আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আমি কাজ শুরু করি। আমার কাজে আমার মা সহযোগিতা করতো। আমার মায়ের সহযোগিতা না থাকলে আমার ব্যবসায় অনেক সমস্যা হতো।
একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে আমার মা, আমার ছোট ভাই আর সুমি আপু। আপু আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবসার জন্য পেজ যদি না খুলতাম, তাহলে তো কেউ জানতো না। আমার সেল হতো না। তাই কাজের প্রথম উদ্দেশ্য, পেজের কারণে মানুষের কাছে পরিচিত হলে সেলও বাড়বে।
যখন কেকের সেলটা কমে যেত, তখন মনে হতো আমি আর পারবো না। তখন আমার মা আমাকে সাহস দিত। তখন আমি আবার কাজ শুরু করতাম। আমাকে দাঁড় করিয়েছে আমার মা।
আমার সাফল্যের পেছনে আমার মা আর আমার ছোট ভাই। আমার ছোট একটা মেয়ে আছে। আমি যখন কাজ করতাম, তখন আমার মা আমার মেয়েকে রাখতো। আমাকে ঘরের কাজ, মেয়ে রাখা—সবকিছুতে আমার মা সহযোগিতা করতো। আর যখন জিনিসপত্র লাগতো, আমার ছোট ভাই এনে দিত। আমার কাজে অনেক সহযোগিতা করতো।
আমি অনেক দূর এগিয়ে যাব। আমি আমার নিজের একটা প্রতিষ্ঠান খুলবো।
কাজ জেনে বসে না থেকে কাজ শুরু করাটা ভালো। সবার মধ্যে তো একই প্রতিভা থাকে না। আমি কাজ জানি, যে আজ আমার এতিম ছেলে-মেয়েদের খাওয়াতে পারছি, তাদের কিছু কিছু চাওয়া পূরণ করতে পারছি। আজ আমি কাজ যদি না জানতাম, ঘরে যদি বসে থাকতাম, আজকে আমার চলার পথ থাকতো না। তাই কাজ জেনে বসে না থেকে কাজ শুরু করাটা ভালো।
সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে অর্থনৈতিক দিক তো আছেই। একজন নারী নিজের পরিচয় নিজে গড়ে তুলতে পারে, নিজের খরচ চালাতে পারে, ছোট ছোট স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারে, আর নিজের স্বাধীনতা নিয়ে চলতে পারে।
শুরুতে যে সব মানুষ নানান কথা বলতো, সাফল্য হওয়ার পর তারা গর্ব করে। আমার চলার পথে এই কাজগুলো করা ছিল বাঁচার উপায়।

