জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি-এর ২০২৫ সালের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে পর্যটননগরী কক্সবাজারে। হোটেল সী প্যালেসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কোম্পানির বিভিন্ন শাখা ও অঞ্চলের প্রায় ৮৫০ জন উন্নয়ন কর্মকর্তা ও কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)-এর প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এস. এম. নুরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান এ. টি. এম. এনায়েত উল্লাহ, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট বি. এম. ইউসুফ আলীসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
গ্রাহক আস্থা ও সুশাসনের প্রশংসা
প্রধান অতিথি সাঈদ আহমেদ বলেন,
> “জেনিথ ইসলামী লাইফের বিরুদ্ধে দাবি পরিশোধ না করার কোনো অভিযোগ নেই—এটি প্রতিষ্ঠানের সুশাসন ও গ্রাহক আস্থার সেরা দৃষ্টান্ত।”
তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে ৩৬টি জীবনবীমা কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে প্রায় ১০টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার দাবি পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।
দাবি পরিশোধ ও সম্মাননা প্রদান
সম্মেলনে মোট ২২ লাখ ৩০ হাজার ৬০৫ টাকার দাবির চেক গ্রাহকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যার মধ্যে মৃত্যুদাবির পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ২৪ হাজার ৩০ টাকা।
অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা ও উন্নয়ন কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়।
মানবিক মূল্যবোধে বীমার ভূমিকা
বিশেষ অতিথি বিএম ইউসুফ আলী বলেন,
> “বীমা কেবল আর্থিক নিরাপত্তা নয়, এটি মানবিক অঙ্গীকারের প্রতীক। জেনিথ ইসলামী লাইফের সততা ও গ্রাহকবান্ধব সেবা ভবিষ্যতে পুরো শিল্পখাতের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা
সিইও এস. এম. নুরুজ্জামান বলেন,
> “আমরা এখন সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছি। ইআরপি সফটওয়্যার, কল সেন্টার, ই-রিসিপ্ট এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকসেবা আরও সহজ ও দ্রুত করা হয়েছে।”
তিনি জানান—
কোম্পানির দাবি নিষ্পত্তির হার ৯৭.২৩%
প্রথম বর্ষের প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে ৭১.৮১%
নবায়ন প্রিমিয়াম বৃদ্ধি ১১.৫০%
গ্রুপ বীমা বৃদ্ধি ২৪%
বর্তমানে কোম্পানির সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা ২৫,০০০-এরও বেশি
রঙিন র্যালি ও অনুপ্রেরণামূলক বার্তা
দিনব্যাপী সম্মেলনটি রঙিন র্যালির মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়। সমাপনী বক্তব্যে সিইও এস. এম. নুরুজ্জামান বলেন,
> “প্রতিদিন একটি নতুন পলিসি বিক্রি, একটি নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ, একটি নতুন এফএ নিয়োগ এবং সাপ্তাহিক সভায় অংশগ্রহণ—এই চারটি অভ্যাসই জেনিথ ইসলামী লাইফের সাফল্যের চাবিকাঠি।”
জেনিথ ইসলামী লাইফের এই সম্মেলন শুধু কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের আয়োজন নয়, বরং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও গ্রাহক আস্থা বৃদ্ধির নতুন অঙ্গীকারও বটে।
প্রতিষ্ঠানটি তার নৈতিকতা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে দেশের জীবনবীমা খাতে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছে।

