পত্রিকার পাতা
ঢাকারবিবার , ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করলে জরিমানা ১ লাখ টাকা, হতে পারে ৩ মাসের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ৪, ২০২৬ ৮:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক সন্তানের আইনগত দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন না করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড হতে পারে।
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩-এ এ বিধান রয়েছে। আইনে ‘পিতা’ বলতে সন্তানের জনক এবং ‘মাতা’ বলতে গর্ভধারিণীকে বোঝানো হয়েছে। ভরণ-পোষণের মধ্যে খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান ও প্রয়োজনীয় সঙ্গ দেওয়ার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত।
কী বলছে আইন
আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে তারা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারবেন।
এ ছাড়া পিতা-মাতার জন্য একই স্থানে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোথাও থাকতে বাধ্য করা যাবে না।
আইনে আরও বলা হয়েছে, সন্তানদের নিয়মিত পিতা-মাতার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হবে। পিতা-মাতা আলাদাভাবে বসবাস করলে সন্তানের আয় থেকে যুক্তিসংগত পরিমাণ অর্থ নিয়মিত দিতে হবে।
দাদা-দাদী ও নানা-নানীর ভরণ-পোষণও অন্তর্ভুক্ত
আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী, পিতার অনুপস্থিতিতে দাদা-দাদী এবং মাতার অনুপস্থিতিতে নানা-নানীর ভরণ-পোষণের দায়িত্বও নাতি-নাতনির ওপর বর্তাবে। এটিও ভরণ-পোষণের আইনি দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
দায়িত্ব পালন না করলে কী শাস্তি
আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড হতে পারে।
একই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সন্তানের স্ত্রী, স্বামী, সন্তান বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি পিতা-মাতা, দাদা-দাদী বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণে বাধা দেন বা অসহযোগিতা করেন, তবে তাকেও একই অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে একই ধরনের শাস্তির আওতায় আনা যাবে।
আইনজীবীর মত
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন বলেন, পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ দেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও প্রবীণদের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তাঁর মতে, আইনের ৩ ধারায় পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাসে পাঠানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা পারিবারিক সম্পর্ককে আইনি সুরক্ষা দেয়।
তিনি বলেন, আইনের ৫ ধারায় জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা সন্তানদের জন্য কঠোর বার্তা বহন করে। একই সঙ্গে ৪ ধারার মাধ্যমে দাদা-দাদী ও নানা-নানীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব অন্তর্ভুক্ত করায় পারিবারিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হয়েছে।
অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন আরও বলেন, আইনের ৮ ধারায় আপস-মীমাংসার সুযোগ রয়েছে। ফলে আদালতের বাইরে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির পথও খোলা থাকে। এ ছাড়া ২০২৩ সালের বিধিমালায় ভরণ-পোষণ তহবিল ও প্রবীণ পরিচর্যাকেন্দ্র গঠনের বিধান রাখা হয়েছে, যা অসহায় প্রবীণদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাঁর ভাষ্য, এই আইনের উদ্দেশ্য শুধু শাস্তি দেওয়া নয়; বরং সন্তানদের পারিবারিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা। আইনটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়লে প্রবীণদের অধিকার ও পারিবারিক সম্প্রীতি আরও শক্তিশালী হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।