পত্রিকার পাতা
ঢাকাসোমবার , ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা সরকারের

Main Admin
জুন ৮, ২০২৬ ৭:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্ব পাবে দক্ষতা, নৈতিকতা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও উদ্যোক্তা বিকাশ; শিক্ষার্থীদের জন্য ট্যাব সরবরাহেরও পরিকল্পনা।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী করতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও উদ্যোক্তা দক্ষতা বিকাশে একাধিক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু সনদনির্ভর না হয়ে বাস্তব জীবনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

মাহদী আমিন বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, মেধা ও মননশীলতার বিকাশ ঘটবে।

তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষার ফল বা সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; খেলাধুলা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, নেতৃত্ব ও কর্মদক্ষতার ক্ষেত্রেও সমানভাবে এগিয়ে যাবে।”

শিক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবে নতুন পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিষয়গুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক আচরণ ও বাস্তব জীবনের দক্ষতা বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মাহদী আমিন বলেন, “ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়কে পৃথক বিষয় হিসেবে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বিষয়টির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা, মূল্যবোধ এবং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়গুলো শেখানো হবে।

আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সুযোগও তৈরি করা হবে বলে জানান উপদেষ্টা। বিদ্যমান শিক্ষাকাঠামোর মধ্যেই এ বিষয়ে একটি বিস্তৃত অধ্যায় সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাব্যবস্থায় নানা সীমাবদ্ধতা ও সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।

তিনি বলেন, “বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংযোজন, বিয়োজন ও পরিমার্জন করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, দক্ষতা ও শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।”

শিক্ষাখাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, “প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ১৪ লাখ ট্যাব প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেটে পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

তিনি জানান, চলতি বছর প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ২২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। ইউনিয়ন থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ২০ জুন জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা বিকাশে ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ নামে একটি জাতীয় কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় ও জাতীয় সমস্যার সমাধানে উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপনের সুযোগ পাবে। সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলোর জন্য সিড ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থাও করা হবে।

উপদেষ্টা বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে জাতীয় পর্যায়ে স্কিলস কম্পিটিশন, ক্যারিয়ার ফেয়ার এবং সরাসরি চাকরির সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা চাই কারিগরি শিক্ষা একটি সম্মানজনক শিক্ষাধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করুক।”

পরিবেশ সংরক্ষণে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান মাহদী আমিন।

সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।