চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। সর্বোচ্চ এই গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে ছেলেদের পেছনে ফেলে এবারও এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন এবং ছাত্র ৫২ হাজার ৭৮০ জন। অর্থাৎ, জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রদের চেয়ে ১১ হাজার ১১৬ জন বেশি ছাত্রী কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আজ সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।
পরীক্ষার ফল পেয়ে উল্লাসে মেতেছেন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেয়েরা। ছবি: বাসস
গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ কমেছে
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। সে হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
২০২৩ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। আর ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।
৯ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পাওয়া মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, চলতি বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ।
মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডসহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার সার্বিক গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ বছর ১১টি বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।
যেভাবে ফল দেখা যাচ্ছে
ফল প্রকাশের পর থেকে শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট, মোবাইল এসএমএস এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের ফলাফল দেখতে পারছেন।

