রাজধানীর যানজট কমানো ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সায়েদাবাদ আন্তজেলা বাস টার্মিনাল নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন টার্মিনালের অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব পাবে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেড। কাজটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হবে, অর্থাৎ এ জন্য কোনো দরপত্র আহ্বান করা হবে না।
বুধবার সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে রাজধানীর যানজট নিরসনে চারটি প্রধান আন্তজেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১৫ জুন সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল কাঁচপুরে, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে, গাবতলী বাস টার্মিনাল হেমায়েতপুরে এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে পূর্বাচল ও পরবর্তী সময়ে টঙ্গীর কাছাকাছি স্থায়ীভাবে স্থানান্তর করা হবে।
গত ২৪ জুন প্রস্তাবিত কাঁচপুর বাস টার্মিনালের স্থান পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ। সে সময় তিনি জানান, ছয় মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কাঁচপুর বাস টার্মিনাল নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এ অর্থে যাত্রীছাউনি, টিকিট কাউন্টার, টয়লেট, অফিস কক্ষসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪ হাজার ১২ বর্গমিটার প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ, টাইলস বসানো, প্রোফাইল শিটের ছাউনি, ১২০টি টিকিট কাউন্টার, ৩২টি টয়লেট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্য তিনটি টার্মিনালের অগ্রগতি
বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ জানান, গাবতলী বাস টার্মিনালের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের জমি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। বিকল্প হিসেবে হেমায়েতপুরের স্থান বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, মহাখালী বাস টার্মিনালের জন্য আশুলিয়ায় একটি জায়গা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে পূর্বাচলে স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণ এবং গুলিস্তান বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জেলা প্রশাসন, বাসমালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নেসকোর ৯টি উপকেন্দ্র আধুনিকায়নের অনুমোদন
একই বৈঠকে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) এলাকার বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে ৯টি ৩৩/১১ কেভি এআইএস উপকেন্দ্র আধুনিকায়ন প্রকল্পের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৪১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। যৌথভাবে কাজটি বাস্তবায়ন করবে অ্যাডেক্স করপোরেশন লিমিটেড ও অ্যাডেক্স ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার একটি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ভ্যারিয়েশন প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটির অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৯ লাখ টাকা। ফলে সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে ১১৬ কোটি ৯ লাখ টাকা।

