ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শুধু সুগন্ধি কালিজিরা ধান। কোথাও কচি ধান, কোথাও পাকা শিষ দোল খাচ্ছে বাতাসে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কৃষকের মুখে এখন আশার হাসি।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে আমন ধান আবাদ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৪১২ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ১৯০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে সুগন্ধি কালিজিরা ধান। গত বছরের তুলনায় আবাদ বেড়েছে ৪০ হেক্টর। কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উদ্যোগে ৯০০ কৃষক পেয়েছেন বীজ, সার ও প্রণোদনা।
তারাগন, দেবগ্রাম, আদমপুর ও ধাতুরপহেলার মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের ঢেউ। উচ্চফলনশীল জাতের পাশাপাশি শৌখিন কৃষকরাও আবার ফিরে এসেছেন কালিজিরা ধানের আবাদে। মাঠে হেলে পড়া শিষ আর বাতাসে ভেসে আসা সুবাসে কৃষকের চোখে ফুটে উঠেছে এক নিভৃত আনন্দ।
একসময় এই অঞ্চলে রাজত্ব ছিল দেশীয় সুগন্ধি ধানের। কিন্তু বিদেশি জাতের ধান বাড়ায় হারিয়ে যেতে বসেছিল কালিজিরা। তবু কিছু কৃষক মাটি আর স্মৃতির টানে ধরে রেখেছেন এই উত্তরাধিকার। তাদের হাতেই আজ ফিরে এসেছে কালিজিরা ধানের জয়গান।
কৃষক আমির হোসেন বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকেই আমাদের ঘরে এই ধান ছিল। কিছুদিন হারিয়ে গিয়েছিল, এখন ভালো বীজ পেয়ে আবার ফিরিয়ে এনেছি সেই গন্ধ। আট বিঘার মধ্যে এক বিঘায় কালিজিরা চাষ করেছি। ধানের শিষে এখন সোনালি রোদ্দুর খেলা করছে।’
কৃষক আবুল আওয়াল জানান, ‘আমন ধানে ছয় বিঘা জমি করেছি, এক বিঘা কালিজিরা। কৃষি অফিস থেকে বীজ ও সার পেয়েছি। বৃষ্টি সময়মতো হওয়ায় ফলন ভালো হবে। আশা করছি প্রতি বিঘায় ছয় থেকে সাত মণ সুগন্ধি ধান পাব।’ পথচারী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে গেলে এখন হাওয়া ভরে ওঠে ধানের ঘ্রাণে, যেন পুরো আখাউড়ার বাতাসেই ভাসে এক মিষ্টি সুর।’
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আমন ধান আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৪১২ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ১৯০ হেক্টরে কালিজিরা ধান। দেশীয় জাতের এই ধান খরচে কম, লাভে বেশি। মাঠের অবস্থা আশাব্যঞ্জক- আমরা আশা করছি এ বছর হবে বাম্পার ফলন।’

