মৌলভীবাজার ও দিনাজপুরে অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টির কারণে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। দুই জেলার মাঠজুড়ে এখন পাকা ধানের সুবাস আর কৃষকের মুখে খুশির হাসি।মৌলভীবাজারে এবার আবহাওয়া ছিল অনুকূলে। ছিল না অতিবৃষ্টি বা বড় কোনো দুর্যোগ। পোকামাকড়ের আক্রমণও ছিল কম। জমিতে পাকা ধানের শিষ দেখে কৃষকরা আশাবাদী। আর কিছুদিন পরই শুরু হবে ধান কাটার মৌসুম।সারা জেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৮ হাজার ৩৫ হেক্টর। চাষ হয়েছে ৯৮ হাজার ২০ হেক্টরে। জলাবদ্ধতার কারণে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫ হেক্টর কম জমিতে চাষ হয়েছে। এবার বেশি চাষ হয়েছে ব্রি-ধান ১০৩, ব্রি-ধান ৫১, ৫২ ও ৪৯। পাশাপাশি বন্যা সহনশীল ব্রি-ধান ২২ ও ২৩-ও রোপণ করেছেন অনেক কৃষক।স্থানীয় কৃষক সুরুজ মিয়া বলেন, ‘গতবার দামের সমস্যা ছিল। এবার দাম ভালো হবে বলে মনে করি। ১১ কিয়ার জমিতে ধান করছি।’ জগৎপুর গ্রামের কৃষক মিজানুর আহমদ বলেন, ‘এবার রোদ-বৃষ্টির ভারসাম্য ছিল। ফলন ভালো হয়েছে।’
অন্তেহরি এলাকার কৃষক সুভাষ মালাকার বলেন, ‘এবার ধানে তেমন চিটা হয়নি।’ রাজনগরের মোস্তফা মিয়া বলেন, ‘২৪ সালের বন্যার পর জমিতে ফসল ভালো হচ্ছে।’ মল্লিকসরাইয়ের রজব আলী বলেন, ‘৪ কিয়ার জমিতে চাষ করেছি। প্রতি কিয়ারে ১৭-১৮ মণ ধান পাব।’ রায়শ্রী গ্রামের বিষ্ণু দেব বলেন, ‘ঘরের খাবারের পর ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ হবে।’ ঘরগাঁও গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, ‘৮ কিয়ারের জমিতে ব্রি-ধান ১০৩ করেছি। ফলন ভালো।’মৌলভীবাজার কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘পরিমিত বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে পানি ছিল। খাদ্যের ঘাটতি হয়নি। ফলে ধানে চিটা হবে না এবং ফলন ভালো থাকবে।’
অন্যদিকে দিনাজপুরে আমন ধান কর্তনের উৎসব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। দিগন্তজোড়া পাকা ধানের মাঠে এখন উৎসবের পরিবেশ। গত বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ব্রি-৫১ জাতের ধান কেটে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন। মাঠেই প্রস্তুত করা হয় ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা ও ঐতিহ্যবাহী খাবার।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমার বাবা ছিলেন কৃষক। ধান কাটার স্মৃতি আজ আবার ফিরে পেলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকরাই দেশের চালিকাশক্তি। সরকার তাদের পাশে আছে।’কালিকাপুরের কৃষক কেশব চন্দ্র রায় বলেন, ‘ব্রি-৫১ জাতের ধান করেছি। প্রতি বিঘায় খরচ ১২-১৩ হাজার টাকা। আশা করছি ২২-২৩ মণ ধান পাব। এতে ১৪-১৫ হাজার টাকা লাভ হবে।’ কৃষক আবদুল লতিফ বলেন, ‘এক একর জমিতে চাষ করেছি। আধুনিক কৃষি অ্যাপ ব্যবহার করে কম সারে ভালো ফলন পেয়েছি।’ কৃষক হামিদুর রহমান বলেন, ‘ব্রি-৫১ আগাম জাত। ধান কাটার পর আলু চাষ করব।’
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাসুম তুষার বলেন, ‘ব্রি-৫১ আগাম ও উচ্চফলনশীল জাত। কম খরচে বেশি ফলন পাওয়া যায়।’ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আফজাল হোসেন বলেন, ‘এ মৌসুমে ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হবে প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন চাল। এর বাজার মূল্য ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি।’ তিনি বলেন, ‘নতুন জাত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকের খরচ কমছে, উর্বরতা বাড়ছে, ফলনও আশানুরূপ হচ্ছে।’
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অনুকূল আবহাওয়া ও সরকারি সহায়তায় এবার আমনের ফলন খুব ভালো। মাঠে মাঠে কৃষকের হাসি আর বাতাসে নতুন ধানের সুবাস ভাসছে।’

