বিজ্ঞাপন Walton Refrigerator Freezer Offer
পত্রিকার পাতা
ঢাকাসোমবার , ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

আমানতকারীদের আগ্রহ বাড়ছে ব্যাংকে স্থায়ী আমানত বৃদ্ধি

Main Admin
অক্টোবর ১৮, ২০২৫ ১:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বর্তমান উচ্চমূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের সঞ্চয়ের সক্ষমতা কম হলেও ব্যাংকের আমানত বাড়ছে। এটি আশার কথা। চলতি আমানতের চেয়ে স্থায়ী বা মেয়াদি আমানত বেশি হারে বেড়েছে। মূলত মেয়াদি আমানতের সুদহার বেশি হওয়ায় এই শ্রেণির আমানত বেশি বাড়ছে। এখানে ব্যক্তির পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানও বেশি পরিমাণে ব্যাংকে এফডিআর রাখছে। দেশের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের সময় আমানত প্রবৃদ্ধি নিম্নে ছিল। বর্তমানে তা অনেক বেড়েছে। ক্রমান্বয়ে ব্যাংকে এ ধরনের স্থায়ী আমানত বাড়ায় গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শুরুতে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময় ব্যাংকঋণের সুদহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাড়ানো হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদহার। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে ক্রমাগতভাবে নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। বর্তমান গভর্নর তিন দফায় নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করেছেন। এতে করে ব্যাংকঋণের সুদহারও অব্যাহতভাবে বাড়ছে।

বর্তমান উচ্চমূল্যস্ফীতিতে মানুষের সঞ্চয় সক্ষমতা খুব বেশি বাড়ছে না, বরং কমছে। তার পরও ব্যাংকে আমানত বিশেষ করে মেয়াদি আমানত বাড়ছে। প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংকের মোট আমানতের অধিকাংশই মেয়াদি আমানত। চলতি বছরের জুলাই শেষে মেয়াদি আমানতের প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা বা ৯ দশমিক ২ শতাংশ। আর একই সময়ে চলতি আমানতের প্রবৃদ্ধি বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

মেয়াদি আমানতের সুদহার বাড়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সুদ বাবদ আয় বাড়ানোর দিকে আরও বেশি ঝুঁকে পড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা। তারা বলছেন, আমানতের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা বাড়ছে। উচ্চ সুদের বাজারে প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হলেও দেশের বেসরকারি বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসএমই উদ্যোক্তা তৈরি হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। যদি কোনো ব্যাংক এফডিআরসহ যেকোনো সঞ্চয়ে বেশি মুনাফার ঘোষণা দেয়, তাহলে সচেতন গ্রাহক হিসেবে অবশ্যই ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, শুধু উচ্চ রেট দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট শর্ত, ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি, ব্যাংকের সুনাম ও স্থিতিস্থাপকতা বিবেচনায় নিতে হবে।

সম্প্রতি দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা বৈঠকে ঋণের সুদহার কমানোর দাবি জানিয়েছেন। গভর্নর আগামী মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার কিছুটা কমানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, উচ্চমূল্যস্ফীতি, সরকার পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে চলমান অনিশ্চয়তা এবং কয়েকটি ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠনের প্রভাবে মানুষ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে হাতে ধরে রেখেছে। ফলে আমানত অস্বাভাবিক হারে কমে গিয়েছিল। আর তখন ব্যাংকের বাইরে টাকা রাখার পরিমাণ বাড়ছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা উদ্যোগে ব্যাংক খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে যারা অতিরিক্ত টাকা তুলেছিলেন, সেই টাকা আবার ব্যাংকে রাখতে শুরু করেছেন। সুদের হার বাড়ায় নতুন আমানতও ব্যাংকে আসছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা উদ্যোগের কারণে চলতি ও স্থায়ী আমানত বাড়ায় ব্যাংকিং খাতে আস্থা বেড়েছে। এতে আমানতকারীরাও ব্যাংক খাতে টাকা রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। কারণ আমানতকারীরা সবার আগে দেখেন ব্যাংকের আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টি। দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে সে অবস্থার অনেকটা উত্তরণ ঘটেছে। বর্তমান সরকারও চেষ্টা করছে কীভাবে ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকদের আস্থা ফেরানো যায়। প্রত্যাশা করছি, অচিরেই ব্যাংকিং খাতে গতিশীলতা ফিরে আসবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।