খুলনায় গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে সোনাডাঙ্গা থানার এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা মিনতি রানী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলাটি করেন। মামলায় সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্র এবং তার স্ত্রী পপি মিত্রকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিকেলে অভিযুক্ত দম্পতিকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে মামলার প্রক্রিয়া শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বুধবার দুপুরে রান্নার সময় তরকারি পুড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গৃহকর্মী মিলন চন্দ্র দাশকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার শরীরে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা মিলন চন্দ্র দাশ প্রায় পাঁচ বছর ধরে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করছিলেন।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা খুলনায় এসে থানায় মামলা করেন।
ওসি আরও জানান, নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর ভুক্তভোগীর পরিবার খুলনায় এসে আইনি পদক্ষেপ নেয়। মামলার পর অভিযুক্ত দুজনকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আইনি সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনা অঞ্চলের সমন্বয়কারী আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

