ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিলেটের ওসমানীনগর এলাকায় দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত চারজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ১০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, আজ শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁরা হলেন—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আবুল হোসেন (৪৫), সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীয়ম (২২), ঢাকার বিক্রমপুরের জাহাঙ্গীর শেখের চার বছর বয়সী মেয়ে খোজাইফা, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরবের পেহেলি ভৈরবী।
পুলিশ জানায়, ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-২৫৬৩) এবং সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের একটি বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-৫৯৮৭) মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের সাত যাত্রী নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত তিন বছর বয়সী এক শিশুকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়েছেন।
খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, ওসমানীনগর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ বালাগঞ্জ হাসপাতালে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে।
বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থল এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে আহতদের দেখতে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের দাফনের জন্য সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, হাসপাতালে এক শিশুকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। হাসপাতালে আনা ১৬ জনের মধ্যে চারজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে একজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

