গাইবান্ধার সাত উপজেলার মাঠজুড়ে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর দমকা হাওয়ায় পাকা ও আধাপাকা আমন ধান নুয়ে পড়েছে। জমিতে পানি জমে অনেক জায়গায় ধানের শীষ মাটিতে লেগে পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে সময়ের আগেই অপক্ব ধান কেটে নিচ্ছেন কৃষক।আবহাওয়ার অনিশ্চয়তায় কৃষক দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামান্য ক্ষতিও বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধান বিক্রির দাম আশানুরূপ না হওয়ায় অনেক কৃষকের মূলধনই উঠছে না।জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও বাতাসে গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, পলাশবাড়ী, সাদুল্যাপুর ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার হাজারো একর জমির ধান গাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। নিচু জমিতে পানি জমে শীষে পচন ধরতে শুরু করেছে। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা বাড়তি খরচে আমন রোপণ করেছিলেন। এবার তাদের সেই ধান পানির নিচে, অপক্ব অবস্থায় কেটে নিতে হচ্ছে।
সরেজমিন বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, বাতাসে ধান নুয়ে পড়ার চিত্র। কেউ অপক্ব ধান কেটে গরুর খাদ্য হিসেবে বিক্রি করছেন, কেউ বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউবা হালকা পাকা ধান মাড়াই করছেন। কৃষকরা বলছেন, এবার উৎপাদন খরচ উঠছে না। অনেক ধান পচে যাচ্ছে মাঠে, শ্রমিকের মজুরি বেশি, তাই সময়ের আগেই ধান ঘরে তুলতে হচ্ছে।
গাইবান্ধা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এবার ১ লাখ ৩৩ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬১ হেক্টর জমি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত। ক্ষতির মধ্যে পলাশবাড়ীতে ৫২, গোবিন্দগঞ্জে ৩৩, গাইবান্ধা সদরে ৪৩, ফুলছড়িতে ১১৫, সাঘাটায় ৩০ ও সুন্দরগঞ্জে ১৪২ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মালেকাবাদ গ্রামের কৃষক আকবর হোসেন বলেন, ‘এবার ধারদেনা করে তিন বিঘা জমিতে আমন ধান লাগিয়েছি। ধান বিক্রি করে ধারদেনা শোধ করার আশা ছিল। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি আর বাতাসে সব ধান নুয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অপক্ব ধান কেটে বাজারে বিক্রি করছি।’
একই গ্রামের কৃষক বাবলু মিয়া বলেন, ‘ধান পুরোপুরি পাকেনি। টানা বৃষ্টিতে গাছ পড়ে গেছে, জমিতে পানি জমেছে। আর দেরি করলে সব নষ্ট হয়ে যাবে, তাই এখনই কাটতে হচ্ছে। প্রায় এক বিঘা জমি ক্ষতিগ্রস্ত। শ্রমিকের মজুরি বেশি, কিন্তু দাম উঠছে না। গ্রামের প্রায় সব কৃষকই ক্ষতিগ্রস্ত।’
পলাশবাড়ী উপজেলার কুমারগাড়ী গ্রামের ছোট খন্দকার বলেন, ‘প্রায় ২৪ শতাংশ জমির ধান শেষ। শীষ পানির নিচে। ভালো ফলনের আশা ছিল, কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে, দিনে একজনকে দিতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এক বিঘা জমি থেকে এক কেজি ধানও পাওয়া যাবে না।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ বৃষ্টিতে মাঠের কিছু ধান পড়ে গেলেও পুরোপুরি ক্ষতি হবে না। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যত দ্রুত সম্ভব ধান কেটে শুকিয়ে নিতে। যেসব এলাকায় পানি জমেছে, সেখানে আগে ধান কাটতে বলা হয়েছে।’

