ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ২০২৫:
রাজধানীর জাফরাবাদে ২০১০ সালে শুরু হওয়া কর্ডিয়াল হোম ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপার লিমিটেডের ‘কর্ডিয়াল অপরাজিতা’ নামের আবাসিক প্রকল্প আজও সম্পূর্ণ হয়নি। প্রকল্পের ভূমির মালিকরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
জানা যায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই ডেভেলপার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। রাজনৈতিক পরিচিতি ও প্রভাবকে ব্যবহার করে তিনি নিজেকে প্রভাবশালী রূপে উপস্থাপন করেন। সেই প্রভাব খাটিয়েই তিনি বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও প্রকল্পের কাজ শেষ করেননি বলে অভিযোগ।
২০১৬ সালের পর থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ। ফ্ল্যাট মালিকরা জানান, প্রকল্পে এখনো পর্যন্ত মূল ফটক, নিরাপত্তা গ্রিল, লিফট, জেনারেটর, ছাদ, সিঁড়ি ও সাধারণ কক্ষ নির্মিত হয়নি। এর ফলে প্রতিনিয়ত চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটছে, নেশাগ্রস্তদের আড্ডাখানা তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, লিফট না থাকায় বয়স্ক ও অসুস্থ বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। লিফটের জন্য ফাঁকা রাখা জায়গা অরক্ষিত থাকায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
একজন ফ্ল্যাট মালিক জানান, ২০২৩ সালে লিফট স্থাপনের জন্য ডেভেলপার কোম্পানি ৭ লাখ টাকা গ্রহণ করলেও, লিফট এখনও স্থাপন করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ডেভেলপার কোম্পানি ‘সিকদার এলিভেটর’ নামের কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশে টাকা নেওয়ার পরও কাজ সম্পন্ন করেনি। উল্লেখযোগ্য যে, এই লিফট ইনস্টলেশন কোম্পানি এক শীর্ষ রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ করলেও কোনো জবাবদিহিতা করছে না।
অন্যদিকে, ফ্ল্যাট মালিকরা আরও অভিযোগ করেছেন, কোম্পানিটি রাজউকের নিয়মের পরিপন্থীভাবে অবৈধ অনুমোদন নিয়ে একাধিক ভবন নির্মাণ করেছে। এসব নির্মাণ রাজউকের নীতিমালা ও নিরাপত্তা মানদণ্ডের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি বাসিন্দাদের। ‘কর্ডিয়াল অপরাজিতা’র অসমাপ্ত কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুললে উল্টো হুমকি দেওয়া হয় এবং নতুন করে অতিরিক্ত অর্থ দাবির ঘটনাও ঘটছে।
ফ্ল্যাট মালিকরা সম্প্রতি স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ (জিডি) দায়ের করেছেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডেভেলপার কোম্পানিকে সমস্যা সমাধানের জন্য আহ্বান জানানো হলেও কোম্পানি বা লিফট ইনস্টলেশন প্রতিষ্ঠান কোনো সাড়া দেয়নি। পরবর্তীতে ফ্ল্যাট মালিকরা পুনরায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পুলিশ থেকে আনুষ্ঠানিক সহায়তা চেয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা ইতোমধ্যে রিহ্যাব (রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে দ্রুত ‘কর্ডিয়াল অপরাজিতা’ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয় এবং ফ্ল্যাট মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
বাসিন্দারা সতর্ক করে বলেছেন, ভবনের অরক্ষিত অংশগুলো যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন—এই দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান ঘটুক, এবং ফ্ল্যাট মালিকদের নিরাপদ আবাসনের স্বপ্ন যেন অবশেষে বাস্তবে রূপ নেয়।

