বিশ্বজুড়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর অন্যতম প্রধান কারণ হলো চোখে ছানি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও কিছু সচেতন অভ্যাস অনুসরণ করলে এই রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ছানি পড়ার প্রবণতা বাড়লেও খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শ এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ছানি কী?
চোখের স্বচ্ছ লেন্স ধীরে ধীরে ঘোলা হয়ে গেলে তাকে ছানি বলা হয়। এতে দৃষ্টি ঝাপসা দেখা, আলোতে অস্বস্তি অনুভব করা এবং রাতের বেলায় দেখতে সমস্যা হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ অভ্যাস অনুসরণ করলে ছানি পড়ার ঝুঁকি কমানো এবং চোখ সুস্থ রাখা সম্ভব।
১. অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখকে সুরক্ষিত রাখুন
সূর্যের অতিবেগুনি (UV) রশ্মি দীর্ঘদিন চোখে পড়লে লেন্সের ক্ষতি হতে পারে। তাই বাইরে বের হলে এমন সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত, যা UVA ও UVB—উভয় ধরনের রশ্মি প্রতিরোধ করতে সক্ষম। পাশাপাশি চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি ব্যবহার করলে চোখে সরাসরি সূর্যের আলো পড়া কমে।
২. পুষ্টিকর খাবারকে গুরুত্ব দিন
চোখের সুস্থতায় খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফলমূল চোখের লেন্সকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেলের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। পালং শাক, কেলে, গাজর, কমলা, আম এবং ভিটামিন সি ও ই–সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া সামুদ্রিক মাছের ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চোখের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক।
৩. ধূমপান থেকে দূরে থাকুন
ধূমপান চোখের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি। গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপায়ীদের ছানি হওয়ার সম্ভাবনা অধূমপায়ীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ধূমপানের ফলে শরীরে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান প্রবেশ করে, যা চোখের লেন্সের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট করতে পারে। তাই দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় ধূমপান ত্যাগ করা জরুরি।
৪. দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ ছানি পড়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস চোখের লেন্সে দ্রুত পরিবর্তন ঘটাতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।
৫. নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করান
চোখের যেকোনো সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করতে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। ছানির পাশাপাশি গ্লুকোমা ও বয়সজনিত অন্যান্য চোখের রোগও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের অন্তত দুই বছর পরপর এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের বছরে একবার চোখ পরীক্ষা করানো উচিত।
কেন সচেতনতা জরুরি?
চোখের ছানি একদিনে তৈরি হয় না। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ঝুঁকির কারণে এটি ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান বর্জন, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা দৃষ্টিশক্তি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

