প্রচণ্ড গরমে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, তখন বাড়তে থাকে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিও। বিশেষ করে এ সময় অনেকেই বদহজম, পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি কিংবা পেট ভারী লাগার মতো সমস্যায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গরমে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে গেলে পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতা কিছুটা ধীর হয়ে আসে। ফলে খাবার হজমে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
তবে খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন এনে এসব সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষ করে পানি ও আঁশসমৃদ্ধ কিছু সবজি শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখার পাশাপাশি হজমপ্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
গরমে যেসব সবজি রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়—
**শসা**
গরমের দিনে সবচেয়ে উপকারী সবজিগুলোর একটি হলো শসা। এতে প্রায় ৯৫ থেকে ৯৬ শতাংশ পানি থাকে, যা শরীরকে জলশূন্যতা থেকে রক্ষা করে। পাশাপাশি এতে থাকা আঁশ ও সিলিকা শরীরের বর্জ্য অপসারণে সহায়তা করে। শসা অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা এবং অস্বস্তি কমাতেও কার্যকর।
**লাউ**
গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে লাউ অন্যতম জনপ্রিয় ও উপকারী। এতে প্রায় ৯৬ শতাংশ পানি রয়েছে। এটি শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং পাকস্থলীর আস্তরণকে স্বস্তি দেয়। সহজপাচ্য হওয়ায় হজমের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্যও এটি উপযোগী।
**ঝিঙে**
পানি, ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ঝিঙে হালকা ও সহজপাচ্য একটি সবজি। এটি হজমপ্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং গরমের দিনে পেটকে স্বস্তিতে রাখতে সহায়তা করে।
**টমেটো**
টমেটোতে প্রচুর পানি ও লাইকোপেন নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করার পাশাপাশি পাকস্থলীর অস্বস্তি কমাতেও ভূমিকা রাখে।
**সবুজ শাকসবজি**
পাতাযুক্ত সবুজ শাকসবজিতে থাকে পর্যাপ্ত পানি ও খাদ্যআঁশ। এগুলো সহজে হজম হয় এবং গরমের সময় কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমিয়ে পরিপাকতন্ত্রকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের দিনে অতিরিক্ত তেলযুক্ত, ঝাল-মসলাযুক্ত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিপাকতন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এতে হজমের সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তাই এ সময়ে হাইড্রেটিং ও আঁশসমৃদ্ধ সবজি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।
এসব সবজি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে, পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় রাখে এবং গরমজনিত অস্বস্তি কমিয়ে সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকতে সাহায্য করে।
**বিশেষ পরামর্শ:** পর্যাপ্ত পানি পান, তাজা ফল ও সবজি গ্রহণ এবং অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা গ্রীষ্মকালে সুস্থ থাকার অন্যতম উপায়।
**সূত্র:** আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন।

