পত্রিকার পাতা
ঢাকাবুধবার , ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

বিশ্ব বাঘ দিবস: সুন্দরবনে বেড়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ২৯, ২০২৬ ৬:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আজ বুধবার বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস। একসময় বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার চরম হুমকির মুখে ছিল। তবে কার্যকর আইন প্রয়োগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ফলে এখন সুন্দরবনের বন-বাদাড়ে, এমনকি বন বিভাগের অফিস এলাকাতেও বাঘের অবাধ বিচরণ দেখা যাচ্ছে।

বন বিভাগের মতে, সুন্দরবনে আগের তুলনায় বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। সরকারও বাঘ সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সুন্দরবনে ১৯টি বাঘ বেড়েছে।

তবে চোরা হরিণ শিকার, খাদ্যসংকট, পরিবেশদূষণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি এখনো বাঘের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটেই পালিত হচ্ছে এবারের বিশ্ব বাঘ দিবস।

দিবসটি উপলক্ষে বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ শুধু একটি বিপন্ন প্রাণীকে রক্ষা করার বিষয় নয়; এটি পুরো ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য এবং উপকূলীয় পরিবেশের নিরাপত্তার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তিন দিনের ব্যবধানে দুই দফা বাঘের দেখা

বিশ্ব বাঘ দিবসের প্রাক্কালে তিন দিনের ব্যবধানে পূর্ব সুন্দরবনে দুই দফা বাঘের দেখা মিলেছে। প্রথমে চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের বন অফিস চত্বরে এবং পরে শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী অভয়ারণ্যের টাইগার পয়েন্ট এলাকায় নদী সাঁতরাতে দেখা যায় একটি বাঘকে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই পূর্ব সুন্দরবনের আন্ধারমানিক বন অফিসের সামনে একটি বাঘিনী কিছু সময় খোলা জায়গায় অবস্থান করে পরে জঙ্গলে ফিরে যায়। এরপর ২৬ জুলাই সকালে কচিখালী টাইগার পয়েন্ট এলাকায় টহলরত বন বিভাগের একটি নৌকার সামনে একটি বাঘ নদী সাঁতরে পার হতে দেখা যায়। নৌকার শব্দ পেয়ে সেটি আবার বনে ফিরে যায়। বন বিভাগের স্মার্ট টিমের নৌকার চালক সাইফুর রহমান মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য ধারণ করেন।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, নদী-খাল পেরিয়ে বাঘের চলাচল তাদের স্বাভাবিক আচরণের অংশ। খাবারের সন্ধান, এলাকা পরিবর্তন কিংবা প্রাকৃতিক প্রয়োজনেই তারা নিয়মিত সাঁতার কাটে। তবে এত কাছ থেকে এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়।

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতে কমেছে মানুষ-বাঘের সংঘাত

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সরকার সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্মার্ট পেট্রোলিং, ক্যামেরা ট্র্যাপ, বন অপরাধ দমন এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের কারণে মানুষ-বাঘের সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সম্প্রতি সুন্দরবনে বাঘের চলাচলও আগের তুলনায় বেড়েছে।

তিনি জানান, আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থাপন করা ২০টি ক্যামেরা ট্র্যাপে নতুন তিনটি বাঘের ছবি ধরা পড়েছে। বর্তমানে সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় বন অনেকটাই মানব কোলাহলমুক্ত। ফলে বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী স্বাভাবিক পরিবেশে অবাধে বিচরণ করছে এবং বন অপরাধও কমেছে।

বন বিভাগের মতে, কঠোর আইন প্রয়োগ, স্মার্ট পেট্রোলিং, ক্যামেরা ট্র্যাপ, ড্রোন নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের ফলে বর্তমানে বাঘ হত্যা ও মানুষ-বাঘের সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে চোরা শিকার, পাচার, জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন এবং আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার মতো হুমকি এখনো বাঘ সংরক্ষণের বড় চ্যালেঞ্জ।

আইন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে বাঘ সংরক্ষণে প্রথম বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয় ১৯৭৩ সালে। তখন বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আদেশের মাধ্যমে সুন্দরবনে বাঘ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়। পরে ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে বাঘ শিকার, হত্যা, পাচার ও অবৈধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত হয়। এরপর থেকে বন বিভাগ প্রযুক্তিনির্ভর সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত আড়াই দশকে পূর্ব সুন্দরবনে অন্তত ৯১টি বাঘের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে চোরা শিকারি ও পাচারকারীদের হাতে ২৬টি, বনদস্যুদের হাতে ১৮টি, গ্রামবাসীর পিটুনিতে ১৪টি, বার্ধক্যে ২১টি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিনটি বাঘ মারা গেছে। উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন বাঘের চামড়ার সূত্র ধরে আরও কয়েকটি বাঘ পাচারের শিকার হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও সেসব ঘটনার নির্ভরযোগ্য তথ্য সংরক্ষিত নেই। একই সময়ে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪২৫ জন বনজীবী।

তবে বন বিভাগের দাবি, বর্তমানে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। স্মার্ট পেট্রোলিং, নিয়মিত টহল, ড্রোন ও ক্যামেরা ট্র্যাপের ব্যবহার, বন অপরাধ দমন এবং স্থানীয় মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে ২০২৪ সালের পর থেকে সুন্দরবনে কোনো বাঘ হত্যা বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

উদ্ধার হওয়া বাঘিনীকে ফের অবমুক্ত

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘিনী। বন বিভাগের সদস্যরা সেটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা দেন। পরে গত ১২ জুলাই সুস্থ হওয়ার পর বাঘিনীকে আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়।

বাঘিনীর চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য বনাঞ্চলের প্রায় আট কিলোমিটার এলাকায় ২০টি স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বন বিভাগ এই ঘটনাকে বাঘ সংরক্ষণের সফল উদাহরণ হিসেবে দেখছে।

নয় বছরে বেড়েছে ১৯টি বাঘ

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। ২০১৮ সালের জরিপে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪টিতে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জরিপে পাওয়া গেছে ১২৫টি বাঘ। অর্থাৎ ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে ১৯টি।

সাতক্ষীরা, খুলনা এবং চাঁদপাই-শরণখোলা রেঞ্জে বিভিন্ন সময়ে জরিপ চালিয়ে এ তথ্য পাওয়া যায়। ২০১৫ সালে ১ হাজার ২১৫ বর্গকিলোমিটার, ২০১৮ সালে ১ হাজার ৬৫৬ বর্গকিলোমিটার এবং ২০২৪ সালে ২ হাজার ২৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জরিপ পরিচালিত হয়।

বেড়েছে বাঘের খাবারও

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সুন্দরবনে বাঘ মানুষের নজরে আগের তুলনায় বেশি আসছে। পাশাপাশি বনে বাঘের খাবারেরও সংকট নেই। বাঘের প্রধান খাদ্য চিত্রা হরিণ ও বন্য শূকরের সংখ্যাও বেড়েছে। সম্প্রতি কটকা, কচিখালী ও শরণখোলা রেঞ্জে বাঘের উপস্থিতি বেশি দেখা যাচ্ছে। গত এক বছরে সুন্দরবনে ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকেরা জীবন্ত বাঘ দেখেছেন। এমনকি বন বিভাগের বিভিন্ন অফিস এলাকাতেও বাঘের বিচরণ বেড়েছে।

বন বিভাগের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে বর্তমানে চিত্রা হরিণের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টি এবং বন্য শূকরের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৫১৫টি। বাঘের খাদ্যের ৭৮ শতাংশ আসে চিত্রা হরিণ থেকে, ১১ শতাংশ বন্য শূকর থেকে এবং বাকি ১১ শতাংশ অন্য উৎস থেকে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার রায় বলেন, ইদানীং পর্যটকেরা বাঘ দেখতে পাচ্ছেন। পাশাপাশি বন বিভাগের বিভিন্ন ক্যামেরায় ভিন্ন ভিন্ন বাঘের ছবি ধরা পড়ছে। এটি ইতিবাচক লক্ষণ। বনে বর্তমানে বাঘের পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে। নিজেদের নিরাপদ মনে করায় তাদের বিচরণও বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাঘ শিকারি প্রায় নেই বললেই চলে। তবে হরিণ শিকারিদের ফাঁদে অনেক সময় বাঘ আটকা পড়ে। এ বিষয়ে বন বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগের চারটি রেঞ্জে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বিশেষ করে বাঘ সংরক্ষণে আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।