মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ইজিবাইকে ওঠার পর নিখোঁজ হয় পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। পরে জ্ঞান ফিরলে নিজেকে একটি বদ্ধ ঘরে আটক অবস্থায় দেখতে পায় সে। সেখান থেকে ভাঙা জানালা দিয়ে বেরিয়ে প্রাণে বাঁচে শিশুটি।
নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফরিদপুরের কামারখালী টোলপ্লাজা এলাকা থেকে আয়েশা নূর নামের ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, স্প্রে বা অন্য কোনো উপায়ে তাকে সম্মোহিত করে অপহরণ করা হয়েছিল।
সোমবার দুপুরে মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, আয়েশা নূর মাগুরা শহরের সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাঁর মা মমতা বেগম শহরের কেশবমোড় এলাকা থেকে একটি খালি ইজিবাইয়ে করে মেয়েকে মাদ্রাসায় পাঠান। কিছুদূর যাওয়ার পর ওই ইজিবাইয়ে আরেক ব্যক্তি যাত্রী হিসেবে ওঠেন। পরে সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এলাকার কাছে আয়েশা ইজিবাই থেকে নেমে যায়। এরপর কীভাবে সে মাগুরার সীমানা পেরিয়ে ফরিদপুরের কামারখালী টোলপ্লাজা এলাকায় পৌঁছায়, সে বিষয়ে শিশুটি নিজেও কিছু বলতে পারেনি।
এদিকে সকাল ১০টার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি স্কুলব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় এক যুবক। ব্যাগের ভেতরে থাকা খাতায় লেখা মোবাইল নম্বরে ফোন করে তিনি আয়েশার মা মমতা বেগমকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত মাদ্রাসায় গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর মেয়ে সেখানে পৌঁছায়নি। পরে তিনি মাগুরা সদর থানায় এবং পুলিশ সুপারের কাছে বিষয়টি জানান। এরপরই শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
এরই মধ্যে বেলা ১১টার দিকে আয়েশার জ্ঞান ফেরে। সে নিজেকে ফরিদপুরের কামারখালী টোলপ্লাজা এলাকার একটি বদ্ধ ঘরের ভেতরে দেখতে পায়। আটকে রাখা হয়েছে বুঝতে পেরে ঘরের জানালার ভাঙা অংশ দিয়ে অনেক কষ্টে বেরিয়ে আসে। পরে পাশের একটি বাগান পেরিয়ে দৌড়ে মহাসড়কে উঠে এক পথচারীর সহায়তায় মায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং দুপুরের মধ্যেই নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, ‘শিশুটি ইজিবাইয়ে ওঠার পর যে ব্যক্তি যাত্রী হিসেবে ওঠেন, ধারণা করা হচ্ছে তিনি কোনোভাবে স্প্রে কিংবা অন্য কিছুর মাধ্যমে শিশুটিকে সম্মোহিত করে মাগুরা থেকে নিয়ে যান। কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে তাকে নিয়ে যাওয়া হলেও পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় তাকে অল্প সময়ের মধ্যেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অভিভাবকদের আরও সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটকের জন্য পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

