পত্রিকার পাতা
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উদ্যোক্তা
  5. কর্পোরেট
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. ক্যাম্পাস-ক্যারিয়ার
  8. খেলাধুলা
  9. চাকরির খবর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. তারুণ্য
  13. ধর্ম
  14. পর্যটন
  15. প্রবাস
আজকের সর্বশেষ সব খবর

মাগুরায় কোটি টাকার বেশি মালটার বাজার

Md Abu Bakar Siddique
নভেম্বর ৩, ২০২৫ ১২:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মাগুরায় দেশি মালটার চাষ বেড়েছে। একসময় ধান, লিচু আর পেঁপেতে নির্ভরশীল কৃষকরা এখন মালটা চাষে সফল। জেলায় ২৫ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে দেশি মালটা। বাজারমূল্য ১ কোটি ২৫ লাখ টাকারও বেশি। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেক শ্রমিকের। স্থানীয় মালটা দামে সস্তা, গুণেও ভালো। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, মাগুরা এখন দেশের নতুন ‘মালটা রাজ্য’।

সদর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা রেজাউল হক। সরকারি চাকরিজীবী থাকা অবস্থায়ই গড়ে তোলেন মালটা বাগান। এখন অবসর জীবনে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছেন চাষাবাদে। তার সাফল্য দেখে আশপাশের অনেকেই এখন মালটা চাষে ঝুঁকছেন।

রেজাউল হক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘নিপোর্ট’-এ চাকরি করতেন। আগে তার জমিতে লিচুর বাগান ছিল। কিন্তু লাভজনক না হওয়ায় ২০২১ সালে নতুন করে ২২০ শতাংশ জমিতে বারি-১ জাতের মালটা চাষ শুরু করেন। রোপণ করেন ৫৫২টি চারা।

রেজাউল হক বলেন, ‘প্রথম বছর খরচ হয়েছিল তিন থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার মতো। দ্বিতীয় বছর থেকেই ফল ধরা শুরু হয়। প্রথম বছরে ফলন কম হলেও ৬০ হাজার টাকার মালটা বিক্রি হয়। তৃতীয় বছর বিক্রি হয়েছে ১১ লাখ টাকার মালটা। এবার প্রায় ২০ লাখ টাকার বিক্রির আশা করছি।’

তিনি জানান, প্রতিটি গাছে তিন থেকে সাড়ে তিন মণ পর্যন্ত মালটা ধরেছে। গড়ে প্রতিটি মালটার ওজন প্রায় ২৫০ গ্রাম। বর্তমানে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। সময়ের ব্যবধানে দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন তিনি।

রেজাউল হকের ছোট ভাই তারিকুল ইসলাম বাগানের নিয়মিত দেখাশোনার দায়িত্বে আছেন। তিনি বলেন, ‘বড় ভাই চাকরির সুবাদে বাইরে থাকতেন, তাই শুরু থেকেই আমি বাগানটা দেখি। নিয়মিত চার-পাঁচজন শ্রমিক কাজ করেন, ফল তোলার সময় ১০-১২ জন পর্যন্ত কাজ করেন। বাগানটা আরও বড় করার পরিকল্পনা আছে।’

শ্রমিক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই কাজ করছি এখানে। প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে মজুরি পাই। হাজিরা হয়তো একটু কম, কিন্তু কাজটা নিয়মিত। এতে পরিবারের খরচ মোটামুটি ভালোভাবেই চলছে।’

আরেক শ্রমিক আসলাম মোল্লা বলেন, ‘আমাদের মতো অনেকেরই জীবিকা এখন এই বাগানেই। আগে মৌসুমি কাজ পেতাম, এখন সারা বছর কাজ আছে।’

বাগান থেকে মালটা কিনে বাজারে বিক্রি করেন খুচরা বিক্রেতা মো. আক্তার মল্লিক। তিনি বলেন, ‘বিদেশি মালটা ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়, তাতেও ফরমালিন দেওয়া থাকে। কিন্তু দেশি মালটা ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি করছি, কোনো ফরমালিন নেই, পুষ্টিগুণ একই। মানুষ এখন দেশি মালটার দিকেই ঝুঁকছে।’

ক্রেতা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘দেশি মালটা খেতেও ভালো, দামও কম। টাটকা ফল, কোনো কেমিক্যাল নেই- এজন্যই এখন নিয়মিত কিনি।’

পৌর এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিকুঞ্জ কুমার বলেন, ‘রেজাউল হকের বাগানের ফলন আশাতীত ভালো। আমরা নিয়মিত সার, কীটনাশক ও রোগবালাই দমনে পরামর্শ দিই। এখন অনেকেই লিচু থেকে মালটা চাষে ফিরে আসছেন।’

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রোমানা ইসলাম বলেন, ‘রেজাউল ভাইয়ের বাগানের মালটাগুলো রঙে উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয়। বাজারে এই রঙের ফলের চাহিদা বেশি। বিদেশি মালটা সংরক্ষণে কেমিক্যাল ব্যবহার হয়, দেশি ফল কিন্তু সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘মাগুরার মাটি মালটা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ বছর ২৫ হেক্টর জমিতে মালটা চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১০ টন উৎপাদন হলে মোট ২৫০ টন মালটা উৎপন্ন হবে। বাজারমূল্য ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশি ফলের পুষ্টিগুণ বিদেশি ফলের তুলনায় অনেক বেশি। বিদেশ থেকে আমদানি করা ফলে সংরক্ষণের জন্য কেমিক্যাল ব্যবহার হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই আমরা স্থানীয় কৃষকদের দেশি ফল উৎপাদনে উৎসাহিত করছি।’

জেলার মোট ২৫ হেক্টর জমিতে মালটা চাষ হচ্ছে, এর  মধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে মহম্মদপুর উপজেলায় ১৩ হেক্টর। সদর উপজেলায় ৫ হেক্টর, শ্রীপুরে ৩ হেক্টর এবং শালিখায় ৪ হেক্টর জমিতে চাষ চলছে। কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এ বছর মালটা উৎপাদন গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে।

রেজাউল হক বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই গাছ লাগানোর শখ ছিল। ইউটিউব দেখে ও বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বুঝেছি, মালটা চাষ লাভজনক। অবসরে এসে সেটাকেই জীবনের লক্ষ্য করেছি। এখন এই চাষই আমাকে আত্মনির্ভর করেছে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।