অবশেষে পারমাণবিক বিক্রিয়া বা ফিশন পর্যায়ে পৌঁছেছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর। এর মধ্য দিয়ে কারিগরি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্ত পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু করল কেন্দ্রটি।
রোববার বেলা সাড়ে তিনটায় আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরমাণুবিজ্ঞানী ড. মো. জাহেদুল হাছান। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, এখন ধীরে ধীরে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
কবে নাগাদ উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, জানতে চাইলে জাহেদুল হাছান বলেন, এ বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আগামী কয়েক দিন এ প্রক্রিয়া চলবে। এরপর ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে এগোনো হবে। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও একটি অনুমোদন নিতে হবে।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণ করা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট (আরএনপিপি)। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কেন্দ্রটিতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। রাশিয়ার ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তিতে নির্মিত এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
প্রকল্পটির নির্মাণব্যয় প্রথমে ধরা হয়েছিল ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ব্যয় ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়।
প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ রাশিয়ার ঋণ থেকে এবং বাকি অংশ বাংলাদেশের অর্থায়নে বহন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০১৩ সালে। মূল নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর। এরই মধ্যে অন্তত চার ধাপে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।


