স্টাফ রিপোর্টার : কেরানগঞ্জের আটিবাজারের এক সাধারণ নারীর অসাধারণ গল্প—উম্মে কুলসুম আখি। জীবনের কঠিন বাস্তবতা, আর্থিক সংকট, হতাশা—সবকিছুকে পিছনে ফেলে তিনি দাঁড় করিয়েছেন নিজের পরিচয়, নিজের ব্যবসা ‘বি এম এ কেক অ্যান্ড সুইট’।
২০২৩ সালে পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস—স্বামীর ব্যবসা—হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ে। স্বামী বেকার, ছেলের লেখাপড়ার খরচ, বাবার বাড়িতে থাকা—সব মিলিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় পড়েন আখি।
এই পরিস্থিতিতে তিনি সিদ্ধান্ত নেন নিজেই কিছু করবেন। শুধু নিজের জন্য নয়—স্বামী, সন্তান ও বাবার কাঁধের বোঝা কমানোর আশায়।
আখি জানান, ২০২০ সালেই তিনি একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলেছিলেন। সেখানে রান্নাবান্নার ভিডিও দিতেন। ২০১৪ সাল থেকে কেক বানানোর দক্ষতা ছিল তার—আর সেই দক্ষতাকেই বেছে নেন নতুন পথ হিসেবে।
পরিবার ও বন্ধুদের কেক খাইয়ে তাদের প্রশংসা পাওয়ার পর সাহস পান। প্রথম অর্ডার আসে এক জ্যাঠাতো বোনের কাছ থেকে। সেটিই তার ব্যবসার প্রথম আলো।
ব্যবসা জমে উঠতেই শুরু হয় অন্য সংকট।
বাবার বাড়ির আশেপাশের কিছু লোক তার কাজ নিয়ে খারাপ মন্তব্য করতে থাকে। আত্মীয়স্বজনও নানা অপবাদ ছড়াতে থাকে—কেক ডেলিভারি করতে বাইরে যাওয়া নিয়ে তাকে খারাপ নারীর সঙ্গে তুলনা করা হয়।
এই সময় স্বামী ও বাবা দুজনেই পাশে দাঁড়ান। স্বামী প্রথমদিকে দুশ্চিন্তায় ব্যবসা করতে নিরুৎসাহিত করলেও পরে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করতে শুরু করেন।
বাবা সবসময় বলতেন—
“মানুষ যা-ই বলুক, তুমি কানে নিও না। কাজ চালিয়ে যাও।”
অসংখ্য কষ্ট, অপমান, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আখি তার কেক ব্যবসাকে জনপ্রিয় করে তোলেন। কেরানগঞ্জে তার কেকের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে।
২০২4 সালের শেষ দিকে তিনি এক চাকরিও পান। জীবনে আসে স্থিতি, স্বস্তি।
আখি বিশ্বাস করেন—নারীদের থামিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় কারণ সমাজের কথা শোনা।
তিনি বলেন—
“পাড়া-প্রতিবেশী চাইবে না আপনি সফল হোন। তারা দোষ ধরবেই। তাই মানুষের কথায় কান না দিয়ে নিজের পথ নিজেই তৈরি করতে হবে।”
আজ তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। তার কেক ব্যবসা শুধু আয়ের উৎস নয়—এটা তার আত্মবিশ্বাস, তার পরিচয়।
আখি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সেই সাংবাদিকদের, যারা ছোট উদ্যোক্তাদের গল্প তুলে ধরেন—
“অসংখ্য ধন্যবাদ পত্রিকার পাতাকে। আমাদের মতো ছোট উদ্যোক্তাদের তুলে ধরার জন্য।”

